বৈরী আবহাওয়ায় নৌ-চলাচল বন্ধ

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০১৯

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ রুটে নৌ-চলাচল পাঁচ দিন ধরে বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। এতে সারাদেশ থেকে আসা সন্দ্বীপগামী শত শত মানুষ ঘাটে এসেও যেমন ফিরে যাচ্ছে, তেমনি সন্দ্বীপ থেকে দেশের কোথাও যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে জরুরি ভিত্তিতে ঝুঁকি নিয়ে মালামালের বোটগুলো পার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ইজারাদার।

সন্দ্বীপে আসা-যাওয়ার জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পথ হলো সীতাকুণ্ডের কুমিরা ও সন্দীপ গুপ্তছড়া ঘাট। এই ঘাট হয়েই প্রতিদিন স্পিডবোট ও জাহাজে করে ৫শ' থেকে ১৩শ' যাত্রী বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে। এক সপ্তাহ ধরে বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ সৃষ্টিসহ বৈরী আবহাওয়ার কারণে ইজারাদারের লোকজন গত শনিবার থেকে ছোট নৌযানগুলো চলাচল বন্ধ করে দেয়। এ সময় শুধু এমভি মতিন নামের জাহাজটিই ছিল যাত্রী পরিবহনের একমাত্র ভরসা। কিন্তু সেটিও ২০০ যাত্রী নিয়ে গত শনিবার সন্দ্বীপ থেকে ফেরার পথে মাঝ সাগরে বিকল হয়ে যায়। পাঁচ ঘণ্টা ভাসমান থাকার পর সেটি উদ্ধার করে উপকূলে আনা সম্ভব হয়। এর পর থেকে জাহাজটি চলাচল বন্ধ রেখেছে বিআইডব্লিউটিসি। এর ফলে গত শনিবার থেকে সীতাকুণ্ড-সন্দ্বীপ রুটে আর কোনো নৌযান চলাচল করছে না। ভুক্তভোগীরা জানান, হঠাৎ করে জাহাজ চলাচল না করায় অসংখ্য যাত্রী সীতাকুণ্ডের কুমিরা ও সন্দ্বীপ গুপ্তছড়া ঘাটে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ফিরে যান। চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ যাওয়ার উদ্দেশে কুমিরা ঘাটে আসা সন্দ্বীপ উপজেলার মগধারা এলাকার বাসিন্দা রুবি আক্তার বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে দুই ঘণ্টা বসে থেকে ফিরে যাচ্ছি। একই অবস্থায় পড়েছেন অসংখ্য যাত্রী। সীতাকুণ্ড থেকে সন্দ্বীপগামী মো. আমিন ও কুমিরার বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আবহাওয়া একটু খারাপ হলেই এ রুটে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কখনও কখনও অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত বন্ধ থাকে।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের ইজারাদার এম এম আনোয়ার হোসেন বলেন, সাগর এখন উত্তাল। তাই আমরা সব ধরনের স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রেখেছি। আর এমভি আবদুল মতিন জাহাজটির ইঞ্জিনে ত্রুটি ধরা পড়ায় এটিও বন্ধ রাখতে হয়েছে।

চট্টগ্রামের বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তা ফয়সাল আলম চৌধুরী বলেন, সগরে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত থাকায় জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।