সংস্কারের এক সপ্তাহেই খানাখন্দে বেহাল

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০১৯

হাবিবুর রহমান সোনা, মিঠাপুকুর (রংপুর)

সপ্তাহ খানেক আগে সংস্কার হয়েছে মিঠাপুকুর উপজেলা সদর এলাকার ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক। সংস্কারের পরই মহাসড়কটি দেবে গিয়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ফলে খুব ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। এ কারণে সব ধরনের যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে মহাসড়কটি।

সরেজমিন ওই মহাসড়কের জনদুর্ভোগের চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। মহাসড়কটির মিঠাপুকুর উপজেলা অংশের ২০ কিলোমিটারের মধ্যে ১০ কিলোমিটারজুড়ে দুই শতাধিক স্থানে দেবে গিয়ে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে দুর্ঘটনা। সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতার। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কটি ভোগান্তির কারণ হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। এতে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর মাঝে। মিঠাপুকুর এলাকার রিকশা-ভ্যানচালক বাবু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'হামার এই বিশ্বরোড (মহাসড়ক) দিয়ে চলচলের কষ্টের কথা একনা পেপারোত লেখপার পারেন না? এই সড়ক দিয়ে তো আর চলাচল করা যায় না।' তার মতো শঠিবাড়ির ব্যবসায়ী শাহাদত হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, শাল্টিপাড়ার আবদুল মজিদ খন্দকার, বান্দেরপাড়া বাবুরহাট এলাকায় চাষি মাহিদুল ইসলাম আউলিয়া, মোকলেছার রহমান, বাদশা মিয়াও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

প্রায় এক মাস ধরে রংপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ মহাসড়টির বিভিন্ন অংশে সংস্কার কাজ করছে। শক্তিশালী যন্ত্র ব্যবহার করে মহাসড়কটি খুঁড়ে ফেলে আবার রোলার দিয়ে বসিয়ে দিয়েছে। সপ্তাহ খানেক আগে শেষ হয়েছে উপজেলা সদরের সংস্কার কাজ। এর পরই মহাসড়কটির বিভিন্ন অংশ দেবে গেছে। বিটুমিন উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত আর খানাখন্দের। এবড়োখেবড়ো মহাসড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

উপজেলা সদরের বাসিন্দা প্রদীপ কুমার গোস্বামী, হাফিজুর রহমান মানিক, রুহুল আমিন ও আবদুল মালেক বলেন, মহাসড়কটি সংস্কার হওয়ার আগেই ভালো ছিল। যানবাহন চলাচল করেছে স্বাভাবিকভাবে। কিন্তু সংস্কারের পরই স্মরণকালের জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। এর জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের দায়ী করেন তারা।

রংপুর নগরীর দমদমা থেকে মিঠাপুকুর উপজেলার শঠিবাড়ি বন্দরের অদূরে মির্জাপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের গেট পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার মহাসড়কে রয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। এর মধ্যে মিঠাপুকুর উপজেলা সদর, জায়গীর, বলদীপুকুর, বৈরাগীগঞ্জ, শঠিবাড়ী এলাকায় বাস-ট্রাক তো দূরের কথা, রিকশা-ভ্যানও চলে না। মহাসড়কের এ বেহাল দশার কারণে বাস চলাচল করছে খুব ধীরগতিতে। এর ফলে রাজধানী ঢাকাসহ দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পরিবহন শ্রমিক আবদুর জব্বার বলেন, সড়কের যে অবস্থা, তাতে গাড়ি আর চলে না। মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে খুব ধীরে বাস চালাতে হচ্ছে। সময় বেশি লাগায় যাত্রীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা লেগেই আছে।

বাসচালক মোকলেছার রহমান বলেন, মহাসড়কের মিঠাপুকুর সীমানা অংশটি একেবারেই নাজুক। ছোট-বড় গর্তের কারণে ঝুঁকি নিয়ে বাস চালাতে হচ্ছে।

রংপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুজ্জামান বলেন, মহাসড়কটি ভারী যন্ত্র দিয়ে ক্র্যাশ করে আবার বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর ওপর শক্ত বিটুমিন দেওয়া হবে। তখন সড়কটি পুরোপুরি ভালো হয়ে যাবে। এর আগেই কিছু কিছু জায়গায় গর্ত হয়েছে, দেবে গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ডেকে আনা হয়েছে। খারাপ আবহাওয়ার কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। বৃষ্টিপাত বন্ধ হলেই নষ্ট হওয়া জায়গাগুলো সংস্কার করে বিটুমিন দেওয়া হবে বলেও জানান নির্বাহী প্রকৌশলী।