বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম

প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০১৯      

শাহাদাত হোসেন রতন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলছে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম। শিল্প ও পর্যটন নগরী সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন স্থানে ৭ থেকে ১০ বছর বয়সের অনেক শিশু ভিক্ষাবৃত্তি এবং বিভিন্ন শ্রমজীবীর ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে। শিক্ষাবঞ্চিত হতদরিদ্র পরিবারের এসব শিশু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বেকারি, হোটেল, রিকশাচালনা, ওয়ার্কশপে ওয়েল্ডিং, মাছ বাজারে পানি সংগ্রহ, ফার্নিচার দোকান, ইট ভাঙা, ভাঙাড়ির টোকাই, টেম্পো, বাসের হেলপার ও ব্যক্তি মালিকানা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শ্রম দিচ্ছে।

এক জরিপ সূত্রে জানা গেছে, সোনারগাঁয়ের বিভিন্ন স্থানে দুই শতাধিক শিশু ঝুঁকিপূর্ণ অনেক কাজে জড়িত। শিক্ষাবঞ্চিত এসব শিশুর বয়স ৭ থেকে ১০ বছর বলে জানা যায়।

সরেজমিন উপজেলার হাটবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, হতদরিদ্র অনেক পরিবারের শিক্ষাবঞ্চিত এসব শিশু উপজেলার চরাঞ্চল ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নদীভাঙন, মঙ্গা, সিডর ও আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার।

ফরিদপুর থেকে আসা বৃষ্টি আক্তার (৭) নামে এক শিশু বলে, তার বাবা আরেকটি বিয়ে করে ঢাকায় ভাড়া বাসা নিয়ে থাকেন। মায়ের রোজগারে ঠিকমতো সংসার চলে না বলে সে ভিক্ষা করে।

কুমিল্লা থেকে আসা আবিল হোসেন (৮) নামে এক শিশু উপজেলার পিরোজপুর মঙ্গলেরগাঁও এলাকায় মায়ের দোয়া বেকারিতে কর্মরত। সে বলে, তার বাবা চট্টগ্রাম জেলায় দিনমজুরির কাজ করেন। কিন্তু বাবা যা আয় করেন তা দিয়ে সংসার চলে না। তাই আমারও কাজ করতে হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অধিকাংশ ব্যক্তিমালিকানা প্রতিষ্ঠানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে শিশুরা কাজ করছে। বেশিরভাগ শিশুই উপজেলার মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা, কাঁচপুর, মেঘনাঘাট, বারদী বাজার, জামপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় হোটেল-রেস্তোরাঁয় দিন-রাত কাজে লেগে থাকে।

শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা, মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শ্রম নীতিমালা অনুযায়ী যেসব নিয়ম রয়েছে এর শতকরা ৫০ ভাগও মানা সম্ভব হয় না।

উন্নয়ন সংস্থা ও মানবাধিকার কর্মী আনোয়ার হোসেন জানান, নিয়ম মানার ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছার ঘাটতি না থাকলেও মূল সমস্যা রয়েছে প্রশাসনিক কাঠামোতে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রেক্ষাপট এর জন্য অনেকাংশে দায়ী বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দরিদ্র পরিবারের পথশিশুরাই ঝুঁকিপূর্ণ এসব কাজের সঙ্গে জড়িত।

খেলাঘর আসর সোনারগাঁ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক লায়ন রাজা রহমান রাজন জানান, শিক্ষাবঞ্চিত হতদরিদ্র শিশুদের অধিকার রক্ষায় আমাদের খেলাঘর সংগঠনের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কোনো শিশুর ওপর অমানবিক নির্যাতনের খবর পেলেই আমরা প্রশাসনিক সহায়তায় সেখানে গিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলি।

সোনারগাঁয়ের ইউএনও অঞ্জন কুমার সরকার জানান, খুব শিগগির ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বন্ধ করার জন্য উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।