মাদ্রাসা শিক্ষকের বেত্রাঘাতে ছাত্র হাসপাতালে

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বাংলা পড়া না পারায় তানভীর নামে এক ছাত্রকে (১০) শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে নূরুল কোরআন কওমিয়া মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার ঘটনার বিচার চেয়ে ছেলের বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

জানা যায়, কটিয়াদী পৌর সদরের পূর্বপাড়া মহল্লার নূরুল কোরআন কওমিয়া মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র তানভীর গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাংলা পড়ার উত্তর দিতে না পারার কারণে শিক্ষক আবু সাঈদ মাত্রাতিরিক্ত বেত্রাঘাত করেন। এতে ব্যথা ও জ্বরে কাতর হয়ে পড়ে থাকলেও তাকে সারাদিন কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি এবং তার অভিভাবকেও সংবাদ দেওয়া হয়নি। অন্যান্য ছাত্রের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে তার অভিভাবক দেখা করতে এলে তাদের তানভীরের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। ঘটনার একদিন পর শিক্ষক রাতের বেলা তানভীরকে হাসপাতালে নিয়ে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা করান। এ সময় তানভীর হাসপাতালের সামনে তার চাচার দোকানে গিয়ে চাচার সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও তাকে দেখা করতে না দিয়ে মাদ্রাসায় নিয়ে আসা হয়। তিন দিন পর তার মা মাদ্রাসা থেকে অসুস্থ ছেলেকে বাড়ি নিয়ে যান।

ছাত্রের বাবা মজিবুর রহমান বাচ্চু বলেন, পড়া না পারার কারণে একটি শিশুকে এমন অমানবিক নির্যাতন করতে পারে না। আমি এর বিচার চাই।

মাদ্রাসার প্রধান মাওলানা সিরাজুল হক বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য তানভীরের অভিভাবকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছি। অভিভাবকদের ছাত্রের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি, বিষয়টি সত্য নয়। ইউএনও ইসরাত জাহান কেয়া বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করার জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি।