আশুগঞ্জে তূর্ণা হত্যা মামলা

জীবদ্দশায় রায় কার্যকর দেখতে চান বাবা

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

জেলার আশুগঞ্জের চর চারতলার বহুল আলোচিত কামরুন্নাহার তূর্ণা হত্যার রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি পলাতক রয়েছে। গত বুধবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ সফিউল আজম  মামলার একমাত্র আসামি ঘাতক স্বামী আরিফুল হক রনির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

এদিকে মামলার বাদী ও নিহত গৃহবধূ কামরুন্নাহার তূর্ণার বাবা মফিজুল হক মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জীবদ্দশায় এ রায় কার্যকর করার আকুতি প্রকাশ করেছেন। তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে টেলিফোনে সমকালকে বলেন, এ রায়ে আমি সন্তুষ্ট। যেহেতু আসামি পলাতক, তাই তাকে গ্রেফতার করে দ্রুত রায় কার্যকর করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। তিনি বলেন, রায় কার্যকর দেখে যেতে পারলে মরে গেলেও শান্তি পাব। তিনি আরও বলেন, রায় ঘোষণার পর ওরা (প্রতিপক্ষ) আমার ক্ষতি করতে পারে। আমি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও রয়েছি। তাই আমার আইনজীবীকে বলেছি জিডি (সাধারণ ডায়েরি) প্রস্তুত করার জন্য।

প্রসঙ্গত, পারিবারিক কলহের জের ধরে ২০১৭ সালের ২৪ এপ্রিল রাতে তূর্ণাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে স্বামী আরিফুল হক রনি। হত্যার পর তূর্ণার লাশ বাড়ির পরিত্যক্ত একটি পানির ট্যাঙ্কে লুকিয়ে রাখে ঘাতক স্বামী। এ ঘটনায় পরদিন ২৫ এপ্রিল রনিকে একমাত্র আসামি করে আশুগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন তূর্ণার বাবা মফিজুল হক ঘটনার পর ঘাতক রনি আত্মগোপন করে। ঘটনার আট দিন পর ২ মে (২০১৭) রনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে ঘাতক রনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আদালতে। এদিকে ২০১৮ সালের ১২ নভেম্বর উচ্চ আদালত থেকে রনি জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও গা-ঢাকা দেয়। রায়ের সময় ঘাতক রনি আদালতে অনুপস্থিত ছিল।

এদিকে বহুল আলোচিত তূর্ণা হত্যার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা। জেলা মহিলা পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদিকা শামীমা শিকদার দীনা এ রায়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির মাঝে আশুগঞ্জের তূর্ণা হত্যার রায় শুনে আমি খুবই খুশি হয়েছি। আশা করি সারাদেশের অন্যান্য নারী হত্যা-নির্যাতনের মামলাগুলোও এভাবে স্বল্প সময়ের মধ্যে শেষ হবে। তিনি তূর্ণা হত্যার রায় দ্রুততম সময়ে কার্যকর করার দাবি জানিয়ে বলেন, এ মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করা হলে তূর্ণার স্বজনরা শান্তি ও স্বস্তি পাবেন।

এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয়নি।