মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডে মহাসড়কে খানাখন্দ

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯

মিরসরাই ও সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মিরসরাই অংশের বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে গর্তের কারণে যানবাহন চলাচলে একদিকে যেমন গতি কমে আসছে, অন্যদিকে সড়কে বিকল হয়ে পড়ছে গাড়ি, ফাটছে গাড়ির চাকা। এতে চালক ও যাত্রীরা পড়ছেন ভোগান্তিতে। সড়কে জমে থাকা পানির কারণে চলাচলে অসুবিধায় পড়ছে পথচারীরা। গর্তগুলো ভরাট করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে ইট-বালু ঢালা হলেও তা গাড়ি চাকার সঙ্গে উঠে আবার সড়ক আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।

মিরসরাই অংশের বড়দারোগারহাট থেকে ধুমঘাট ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার মহাসড়কে সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে দেবে গিয়ে সড়কে খালের মতো সৃষ্টি হয়ে পানি জমে আছে। সড়কের বড়দারোগারহাট, নিজামপুর কলেজ এলাকা, হাদিফকিরহাট, নয়দুয়ার, বড়তাকিয়া, বাদামতলীর ফকিরটোলা এলাকা, মিরসরাই সদর, মিঠাছড়া, সোনাপাহাড় ও বারইয়ারহাটের কিছু অংশে সড়ক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চার লেন সড়ক নির্মাণের সময় বড় বড় বাজার এলাকায় সড়কে কার্পেটিং না করে আরসিসি ঢালাই দিয়ে সড়ক নির্মাণ করা হয়। এখন মিরসরাই সদর, মিঠাছড়া, হাদিফকিরহাট, বারইয়ারহাট এলাকায় আরসিসি ঢালাই ফেটে ও দেবে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গত মঙ্গলবার সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মচারীরা ইট-বালু দিয়ে গর্ত ভরাট করে। কিন্তু ইট-বালু দেওয়ার একদিন না যেতেই গাড়ির চাকার সঙ্গে ইট-বালু উঠে আসছে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ট্রাকের চালক মো. আরমান হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী পুরো সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে গাড়ির যন্ত্রাংশের ক্ষতি হচ্ছে। স্বাভাবিক গতিতে গাড়িও চালানো যাচ্ছে না। মিরসরাই সদরের মাইক্রোবাস চালক নুর হোসেন বলেন, সড়কের উঠে আসা পাথরগুলোর কারণে ছোট-বড় সব গাড়ির চাকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, চাকা ফেটে যাচ্ছে।

সীতাকুণ্ডের সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী মো. শহীদুল আলম জানান, বর্ষার কারণে সড়ক কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাময়িকভাবে ইট-বালু দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান মেরামত করা হয়। বৃষ্টি বন্ধ হলে স্থায়ী ভাবে সড়কের মেরামত কাজ করা হবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকৌশলী জুলফিকার আহম্মদ বলেন, অতিরিক্ত বর্ষার কারণে সড়কে গর্তের সৃষ্টি হতে পারে। এটি কোনো বিষয় নয়। ভারী যানবাহন ও ওভারলোড সড়ক নষ্ট হওয়ার একটি কারণ। তবে প্রতিদিনই সড়ক সংস্কারের কাজ চলছে।

এদিকে ভারি বর্ষণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে ছোট-বড় হাজারো খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক যানবাহন গর্তের মধ্যে পড়ে গিয়ে বিকল হওয়ায় মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে। এ ছাড়া মহাসড়কের অর্ধশতাধিক স্থানে পিচ উঠে গেছে। অনেক স্থানে দেবে গেছে সড়ক। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনের তুলনায় ঢাকামুখী লেনে খানাখন্দের  সংখ্যা বেশি।

সরেজমিন দেখা যায়, মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশে (৩৮ কি.মি.) বেশিরভাগ কংক্রিটের ঢালাই ও বিটুমিনের সংযোগস্থলে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া ফৌজদারহাট, বানুরবাজার, ভাটিয়ারী, মাদামবিবিরহাট, শাহ আমিনুল্লাহ পেট্রোল পাম্প, কুমিরা বাঁশবাড়িয়া, বাড়বকুণ্ড, শুকলালহাট, ফকিরহাট, ইকোপার্ক গেটসহ অর্ধশত স্থানে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে।

মহাসড়কের সীতাকুণ্ড বড় দারোগারহাট এলাকায় গিয়ে দেখা যায় গর্তগুলো সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মীরা ইট ও বালু দিয়ে ভরাট করছেন। তবে বৃষ্টির কারণে ইট, বালু চলে যাচ্ছে। আবার সেই গর্তগুলোতে পানি জমে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে গাড়ি।

সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকার বাসিন্দা জাহেদ হোসেন বাবুল বলেন, ছলিমপুর থেকে ভাটিয়ারী পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার সড়কে দুই শতাধিক ছোট-বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এতে শত শত গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ বলেন, তিনি চট্টগ্রাম নগর থেকে বারৈয়ারহাট পর্যন্ত ঘুরে দেখেছেন। সীতাকুণ্ড অংশের কয়েক স্থানে গর্ত হয়েছে। বৃষ্টি কিছুটা কমে এলে দু-একদিনের মধ্যেই কাজ শুরু করবেন তারা।