দেবিদ্বারে দু'পক্ষের পৃথক মামলা

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা

কুমিল্লায় মা-ছেলেসহ প্রকাশ্যে তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনায় দেবিদ্বার থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে মামলা দুটি নথিভুক্ত করা হয়।

নিহত নাজমা বেগমের ছোট ভাই মো. রুবেল হোসেন বৃহস্পতিবার বাদী হয়ে জনতার হাতে গণপিটুনিতে নিহত মোখলেছুর রহমানকে একমাত্র আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘাতক মোখলেছুর রহমান রাধানগর গ্রামের মো. মুর্তজ আলী ওরফে মুতু মিয়ার ছেলে।

পরে নিহত মোখলেছের স্ত্রী রাবেয়া বেগম স্বামী মোখলেছুর রহমানকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগে রাধানগর গ্রামের অজ্ঞাতনামা এক হাজার থেকে দেড় হাজার জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন।

দেবিদ্বার থানার ওসি মো. জহিরুল আনোয়ার জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। তবে মামলা দুটি অধিকতর তদন্ত ও হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কুমিল্লাকে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।

বুধবার সকালে উপজেলার রাধানগর এলাকায় মোখলেছুর রহমান ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে নারী, শিশুসহ তিনজনকে হত্যা করে। এ ঘটনায় আরও সাতজনকে গুরুতর জখম করে সে। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা পেয়ে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা মোখলেছকে পিটিয়ে হত্যা করেন। সে পেশায় রিকশাচালক ছিল।

দেবিদ্বারে মা-ছেলেসহ তিনজনকে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় কুমিল্লা পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত ১৬ জন নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়।

ঘটনার সংবাদ পেয়ে বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহতদের পরিবারকে সান্ত্বনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এবং নিহতদের পরিবারবর্গকে আর্থিক সহযোগিতাসহ তাদের খাদ্যসামগ্রীর ব্যবস্থা এবং আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ডিবি ও পিবিআই কর্মকর্তা, দেবিদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া সার্কেল এএসপি আমিরুল্লাহ, দেবিদ্বার থানার ওসি জহিরুল আনোয়ার, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, জেলা পরিষদ সদস্য শাহজাহান সরকার, সুলতানপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলামসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পুলিশ থাকবে। নিহত তিন পরিবারের মাঝে চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।