১ কি.মি. সড়কে যানজটের সঙ্গে জলাবদ্ধতা

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৯      

ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা

টাঙ্গাইলে-জামালপুর মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে জামালপুর সদর হয়ে সরিষাবাড়ী পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের উন্নয়নকাজ চলছে। কাজের ধীরগতির কারণে প্রতিদিন যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ নিয়ে 'ঘাটাইলে ১ কিলোমিটার সড়ক পার হতে লাগে দেড় ঘণ্টা' শিরোনামে এর আগে সমকালে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এবার এই সড়কে যানজটের ভোগান্তির সঙ্গে নতুন করে যোগ হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা।

সড়ক প্রশস্তকরণ কাজে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে পৌর এলাকায় বন্ধ হয়ে গেছে পানি নিস্কাশনের প্রায় সব ড্রেনের মুখ। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই দেখা দিচ্ছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা। এ ছাড়া পানি জমে থাকায় সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এসব গর্তে যানবাহন আটকে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। হাঁটু পানি ভেঙে সড়ক পারাপার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। যানবাহনের চাকার মাধ্যমে পথচারীদের গায়ে লাগছে ময়লা পানি। জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যাচ্ছে না। সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ছয় মাস আগে শুরু হওয়া ঘাটাইল বাসস্ট্যান্ডের ১ কিলোমিটার সড়কের ঢালাই কাজ এ পর্যন্ত শেষ হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ।

স্থানীয়দের অভিযোগ মূল সড়কে পারুল প্লাজার সামনে বেশ কিছু অংশ ঢালাই কাজের অংশ হিসেবে খোঁড়াখুঁড়ি করে ফেলে রাখে রমজান মাসে। প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত এ অংশে কোনো কাজ করা হয়নি। অপরিকল্পিতভাবে খোঁড়াখুঁড়ির ফলে এ অংশে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা এবং যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এ স্থানটি হেঁটে চলাচলেরও অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান খান বলেন, বারবার তাদের তাগিদ দেওয়ার ফলেও তারা জনবল বাড়াচ্ছে না। কাজের গতি অত্যন্ত ধীর। এ দুর্ভোগ থেকে মানুষ

মুক্তি চায়।

ঘাটাইল উপজেলা চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, কাজের ধীরগতি নিয়ে অনেকবার জেলা সমন্বয় সভায় নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছে। ঘাটাইলবাসী ভোগান্তিতে আছে। ঈদের আগে ঢালাইয়ের কাজ শেষ করবে বলে তারা জানিয়েছে। কিন্তু যে গতিতে কাজ চলছে, তাতে সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না।

এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশনের স্থানীয় পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা কথা বলতে রাজি হয়নি।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক বলেন, বৃষ্টির ও সড়কের সঙ্গে থাকা বৈদ্যুতিক খুঁটির কারণে কাজে সাময়িক অসুবিধা হচ্ছে। আমরা কাজে গতি ফিরিয়ে আনতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আসছে ঈদে যেন ঘরমুখী মানুষ ভোগান্তিতে না পড়ে তার জন্য ঈদের আগেই সড়কের দুই অংশের ঢালাইয়ের কাজ শেষ না করতে পারলেও একাংশ

শেষ করা হবে।