১৩ দিনেও উদ্ধার হয়নি ইমনের মাথা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯      

মাগুরা প্রতিনিধি



'তেরো দিন হয়ে গেলিও পুলিশ এহনো ইমনের খুনিদের আটকাতি পারিনি। যদি তার মাথাও উদ্ধার করতি পারতো তাও মনেরে বুঝ দিতি পারতাম। মাথা উদ্ধার ও আসামি না ধরে পুলিশ বারবার আমাগের বাড়ি আসতিছে। উল্টো ইমনের বাপের সাথে উল্টোপাল্টা কথা কচ্ছে।

ইমন খুনের দিন তিনি বৌর কাছে শুয়ছিলেন কিনা, ইমনকে মারধর করিছেন কিনা, খুন হওয়ার দিন অভিযুক্ত খুনি হুমায়ুনের সাথে তার দেহা হয়ছিলো কিনা। নানা অবান্তর কথা।'- দীর্ঘশ্বাস ফেলে কথাগুলো বলছিলেন ইমনের চাচা মাগুরা সদর উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের সাইফুল ইসলাম।

গত ২ জুলাই দুপুরে মহম্মদপুর উপজেলার পারুয়ারকুল গ্রামের একটি নির্জন এলাকা থেকে পুলিশ মাগুরা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ইমন হোসেনের মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে। ওই দিন বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে অজ্ঞাত হিসেবে ইমনের মরদেহ মাগুরা পৌর গোরস্তানে দাফন করা হয়। এর আগের দিন সন্ধ্যায় তার বন্ধু পাশের গ্রাম সিরিজদিয়ার ঠাণ্ডু ফকিরের ছেলে হুমায়ুন ও তার চাচাতো ভাই অনিক ইমনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার প্রতিশোধ ও ইমনের পাওনা এক লাখ টাকা আত্মসাতের জন্য হুমায়ুন ইমনকে হত্যা করেছে বলে পুলিশের ধারণা। এ ঘটনায় ইমনের বাবা ইসলাম মোল্লা হুমায়ুন, অনিকসহ আরও অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মহম্মদপুর থানায় মামলা করেছেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত হত্যাকারী হুমায়ুন ও অনিকের গোটা পরিবার বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

ইমন হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও তার মস্তক উদ্ধার না হওয়ায় ক্ষুব্ধ মাগুরাবাসী গত সপ্তাহে শহরে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।

মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার) তারিকুল ইসলাম বলেন, মামলাটি মাগুরা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ আসামি গ্রেফতার ও নিহতের মস্তক উদ্ধারে চেষ্টা চালাচ্ছে।