কেশবপুরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর আত্মহত্যা ইউপি মেম্বার আটক

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯      

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

অন্তঃসত্ত্বা দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা ও কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার জহির রায়হানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি মঙ্গলকোট ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য। রোববার পুলিশ তার স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে।

উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য জহির রায়হানের প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। এর পরও তিনি স্ত্রীকে না জানিয়ে ২০১৭ সালে উপজেলার কায়েমখোলা গ্রামের কুদ্দুস গাজীর মেয়ে তানিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। এরই মধ্যে তানিয়া খাতুন ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এদিকে সংসারে প্রায়ই ঝগড়াবিবাদ লেগে থাকত। গত শনিবার রাতে পারিবারিক কলহের জের ধরে তানিয়া খাতুন বিষপান করেন। ওই রাতেই তাকে কেশবপুর হাসপাতালে নেওয়া হলে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। রোববার ভোরে খুলনা নেওয়ার পথে যশোর-সাতক্ষীরা সড়কের কেদারপুর নামক স্থানে পৌঁছলে তার মৃত্যু হয়। পরে ইউপি সদস্য জহির রায়হান সকালে প্রাইভেটকার ভাড়া করে তানিয়ার লাশ নিয়ে তার বাবারবাড়ি কায়েমখোলা গ্রামে গিয়ে হাজির হন। এ সময় তানিয়ার স্বজনরা জহির রায়হানকে মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ঘটনায় তানিয়ার ভাই হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে জহির রায়হানকে আসামি করে রোববার থানায় মামলা করেন।

তানিয়ার ভাই হাফিজুর রহমান বলেন, জহির রায়হানের আরও এক স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে, তা আমরা জানতাম না। বিয়ের পর থেকে জহির রায়হান টাকা দাবি করে আমার বোনকে নির্যাতন করত। শারীরিক নির্যাতনের ফলেই আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে। এখন ঘটনা ধামাচাপা দিতে মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে আত্মহত্যা বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।