মশা নিধনের ওষুধ নেই যন্ত্র দুটিও বিকল

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯      

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

৪৩ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে কুষ্টিয়া পৌরসভা। ৯ থেকে বেড়ে এখন ওয়ার্ডের সংখ্যা ২১টি। জনসংখ্যা তিন লাখ। আয়তন ও জনসংখ্যা বাড়লেও মশা নিধনে কুষ্টিয়া পৌরসভার কোনো কার্যক্রম নেই। আগে ওষুধ ছিটানো হলেও ঝিমিয়ে পড়েছে সে কার্যক্রম। এ ছাড়া দুটি ফগার মেশিন থাকলেও তা বিকল হয়ে পড়ে আছে। ফলে মশার উৎপাত বাড়ছেই। সেই সঙ্গে পৌরবাসীর যন্ত্রণাও বেড়েছে কয়েকগুণ। তবে মশার উৎপাত বাড়লেও বিষয়টি নিয়ে সংশ্নিষ্টরা তেমন বিচলিত নয়।

পৌর বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুষ্টিয়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় মশার উপদ্রবে টেকা কঠিন হয়ে পড়েছে। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করেও রেহাই মিলছে না। মশার যন্ত্রণায় শিশু থেকে বৃদ্ধ প্রত্যেকেই অতিষ্ঠ। পৌরসভায় খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এই মৌসুমে পৌরসভার কোথাও মশা নিধনে কোনো ওষুধ ছিটানো হয়নি। পৌরসভাতে ওষুধও নেই, আবার ওষুধ ছিটানোর দুটি মেশিন আছে, সেগুলোও বেশ কয়েক মাস ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এ অবস্থায় কুষ্টিয়ায় কয়েকজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করেছেন চিকিৎসকরা। এর মধ্যে ইসমাইল হোসেন নামে এক যুবক জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

গতকাল সোমবার সকালে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পৌর এলাকায় অধিকাংশ মহল্লায় ময়লা-আবর্জনা ছড়িয়ে আছে। বৃষ্টিতে উঁচু-নিচু ভবনের পাশে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে মশার জন্ম হচ্ছে। এ ছাড়া নালার ভেতরেও মশা ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ছে। পৌরসভার পশ্চিম মজমপুর এলাকার বাসিন্দা আজিজুর রহমান বাবু বলেন, সন্ধ্যার পর থেকেই ঘরে মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। দরজা-জানালা বন্ধ রাখলেও মশা কমছে না। দিনের বেলাতেও কয়েল জ্বালাতে হয়। পৌরসভা কার্যালয় সূত্র জানায়, গত তিন বছর ধরে মশা নিধনের কোনো ওষুধ কেনা হয়নি। যেটুকু ছিল সেটাও প্রায় এক মাস আগে শেষ হয়ে গেছে। ওষুধ কেনার জন্য একটি কমিটি থাকলেও তার কার্যক্রম নেই। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এএসএম মুসা কবির বলেন, কুষ্টিয়াতেও এডিস মশা থাকতে পারে। এক রোগী আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। তাই সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

পৌরসভার মেয়র আনোয়ার আলী বলেন, ওষুধ কেনা ও যন্ত্র মেরামতের ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া নিয়মত ড্রেন পরিস্কার করাসহ সড়কের আবর্জনা অপসারণ করা হচ্ছে। তবে পৌর বাসিন্দারা সচেতন হলেই মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।