সৈকত সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণে ধীরগতি

কুয়াকাটা

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০১৯      

খান এ রাজ্জাক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)

চলছে বর্ষা মৌসুম। উত্তাল সমুদ্র। বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা সৈকতে। অথচ ভাঙনের কবলে বিপর্যস্ত সৈকত এখনও সুরক্ষিত হয়নি। যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নেওয়া প্রায় দেড় কিলোমিটার  মেরিন ড্রাইভ সড়ক বা সুরক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজের মেয়াদ শেষ হয়েছে ১৫ দিন আগে। এ কাজেরই অংশ হিসেবে সৈকতে জিও ব্যাগে টিউব ফেলা হলেও বালু বের হয়ে সমুদ্রের পানিতে ভেসে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের বালু দেওয়ায় টিউবের এই সুরক্ষা টিকছে না। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, মেয়াদ শেষে ৬০ থেকে ৬৫ ভাগ কাজ হয়েছে। তবে মাঠপর্যায়ের তথ্যমতে, সৈকত সুরক্ষা কাজের অর্ধেকও শেষ হয়নি। যে কারণে ভরা বর্ষায় ভাঙন হুমকিতে পড়েছে পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা।

কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত ভাঙনরোধে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৫৩০ মিটার দৈর্ঘ্য মেরিন ড্রাইভ  সড়ক নির্মাণের জন্য গত ১৫ এপ্রিল কার্যাদেশ দেওয়া হয়  বি জে জিও টেক্সটাইল লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে।

গত ৩০ জুন ওই কাজের মেয়াদ শেষ হয়। সৈকতের জিরো পয়েন্ট এলাকার পিকনিক স্পট থেকে শুরু করে কুয়াকাটা দাখিল মাদ্রাসা পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার জিও বাগে এ মেরিন ড্রাইভ সড়ক তৈরির কাজ চলছে। নির্মাণ কাজে ৬৪টি জিও ব্যাগে টিউব ও ৮ হাজার পিস জিও বস্তা ব্যবহার করা হবে। প্রতিটি জিও টিউবের রিভার সাইডে দুটি করে জিও বস্তা ২.৭৪ মিটার প্রস্থ এবং কান্ট্রি সাইডে দুটি করে জিও বস্তা ২.৭৪ মিটার উঁচু ব্যাগ দিয়ে এ মেরিন ড্রাইভ সড়ক নির্মাণ করতে হবে, এমন নির্দেশনা রয়েছে দরপত্রে।

কুয়াকাটা পৌরসভার কাউন্সিলর তোফায়েল আহম্মেদ তপু বলেন, এ পর্যন্ত ৫০ ভাগ কাজও সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সৈকত সুরক্ষার কাজে ধীরগতি- এমন অভিযোগ করে কুয়াকাটা ইনভেস্টার ফেরামের মুখপাত্র হাসনুল ইকবাল বলেন, নির্দিষ্ট মেয়াদে কাজ শেষ না হওয়ায় বর্ষায় চরম হুমকির মুখে পড়ছে  কুয়াকাটা সৈকত। সেখানকার ট্যুরিজম  ব্যবসায়ী জনি আলমগীর জানিয়েছেন, অদক্ষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এ কাজ দেওয়ায় মানসম্মতভাবে কাজের বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কিত পর্যটক ও ব্যবসায়ীরা।

জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বি জে জিও টেক্সটাইলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী আবদুল্লাহ বলেন, সৈকত সুরক্ষার কাজের ৭০ ভাগ শেষ হয়েছে। আবহাওয়ার কারণে নির্ধারিত মেয়াদে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, টিউব থেকে বালু বের হওয়ার কারণ হচ্ছে ট্যুরিস্ট ও মোটরসাইকেল চালকরা টিউবগুলো ফুটো করছে। বালু মানসম্মতই দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

এ ব্যাপারে প্রকল্পের তদারকি কর্মকর্তা পানি উন্নয়ন বোর্ড কলাপাড়া সার্কেলের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ তারিকুল রহমান বলেন, সৈকতে বালুভর্তি আরও ৬৪ টিউব ফেলা হবে। তিনি স্বীকার করেন কিছু কিছু টিউবের বালু বের হয়ে গেছে। সেগুলো সরিয়ে নতুন টিউব স্থাপনের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন।