ভুল অপারেশনে প্রসূতিসহ তিনজনের মৃত্যু

সেনবাগ ও বিরামপুর

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০১৯

নোয়াখালী ও দিনাজপুর প্রতিনিধি

নোয়াখালীর সেনবাগ পৌর সদরের নিউ সেন্ট্রাল হাসপাতালে বুধবার রাতে ভুল অপারেশনে বিবি কুলসুম ওরফে আকলিমা নামে এক প্রসূতি ও তার নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। তিনি উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের রিপন হোসেনের স্ত্রী। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার আকলিমার বাবা সিদ্দিকুর রহমান থানায় মামলা করলে হাসপাতালের মালিক হারুনুর রশিদ ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী আমিনুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

বুধবার বিকেলে আকলিমার প্রসববেদনা উঠলে তাকে নিউ সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনরা। রাত ৮টার সময় হাসপাতালের মালিক হারুনুর রশিদ ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী আমিনুল ইসলামকে নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মঞ্জুরুল হক সিজার করতে প্রসূতিকে অপারেশন থিয়েটারে নেন। সেখানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী আমিনুল ইসলাম তাকে অ্যানেস্থেশিয়া দেয়। এরপর চিকিৎসক মঞ্জুরুল প্রসূতির তলপেট কাটতে গিয়ে শিশুর মাথা কেটে ফেলেন। বিষয়টি টের পেয়ে বাচ্চা প্রসব না করিয়ে রোগীর তলপেটে ব্যান্ডিস করে অ্যাসম্বুলেন্সে তড়িঘড়ি করে প্রসূতিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে নেওয়ার পথে আকলিমা ও তার সন্তান মারা যান। নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. মোমিনুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনা তদন্তে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি শনিবার প্রতিবেদন দেবে।

এদিকে দিনাজপুরের বিরামপুর শহরের বেসরকারি আনাসা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলায় বুধবার রাতে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিরামপুর থানায় চারজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে পুলিশ ওই মামলার প্রধান আসামি হাসপাতালের ম্যানেজার ফারজানা ইয়াসমিন জলিকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে দিনাজপুর কারাগারে পাঠিয়েছে। এদিকে ওই হাসপাতালের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে না পারায় হাসপাতালটি বন্ধ করে দিয়েছেন ইউএনও।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বিরামপুর পৌর এলাকার বিছকিনি গ্রামের আবু তালেব তার স্ত্রী রেশমা খাতুন বিজলীকে (৩৬) জরায়ুর সমস্যায় বুধবার সকালে ওই হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসক ও অন্যরা রোগীর অপারেশন করতে হবে বলে জানান। বিকেলে রেশমার স্বজনদের অনুমতি ছাড়াই তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে। ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুর রহমান জানান, ওই হাসপাতালের কাগজপত্র কেউ দেখাতে না পারায় সাময়িকভাবে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।