কুষ্টিয়া

লোকসান কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় খামারিরা

গো-খাদ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০১৯      

সাজ্জাদ রানা,কুষ্টিয়া

লোকসান কাটিয়ে ওঠার চেষ্টায় খামারিরা

কুষ্টিয়ার একটি গরুর খামার- সমকাল

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে কুষ্টিয়ার খামার মালিকরা গরু পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তবে গত বছর বেশির ভাগ খামার মালিক লোকসানে পড়ায় এবার গরুর সংখ্যা কিছুটা কমেছে। গত বছরের লোকসান কাটিয়ে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছেন খামার মালিকরা। প্রায় খামারেই দেশি ছোট ও মাঝারি সাইজের গরু লালনপালন করা হচ্ছে। এসব গরুর দাম ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার মধ্যে থাকবে বলে জানান তারা। এদিকে, গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিটি গরুর পেছনে দিনে ১৬৫ টাকা খরচ হচ্ছে।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার দহকুলা গ্রামে মোল্লা কৃষি ফার্মে গিয়ে দেখা গেছে, খামারে ১০৬টি গরু আছে। ১০ জন শ্রমিক গরু পরিচর্যা করছেন। এসব দেশি জাতের গরু স্থানীয় আলামপুর বাজার থেকে দুই থেকে তিন মাস আগে কেনা। খামার মালিক সেলিম হোসেন জানান, দেড় বছর আগে দুই বন্ধু মিলে খামারটি করেছেন। তিনি বলেন, গত বছর ১০০টি দেশি গরু ঢাকার বাজারে নিয়ে গিয়েছিলাম। প্রথম দিকে প্রতিটি গরুতে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা করে লাভ হয়েছিল। পরের দিকে লাভ করতে পারিনি। এতে অনেক টাকা লোকসান হয়। এ বছরও ১০৬টি গরু আছে। এরই মধ্যে কয়েকটি বিক্রি করেছি। বাকিগুলো স্থানীয় বাজারেই বিক্রি করার চেষ্টা করছি। এখানে বিক্রি না হলে বাকিগুলো ঢাকায় নিয়ে যাব। ছোট ও মাঝারি সাইজের প্রতিটি গরু ৭০ হাজার থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হবে বলে আশা করছি।

সেলিম উদ্দীন বলেন, গো-খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় গরু পরিচর্যা ও খাবার বাবদ খরচও বাড়ছে। তবে গত বছরের লোকসান কাটিয়ে এবার লাভ হবে বলে আশা করছি।

একই গ্রামের শফির চারটি গরু আছে। প্রতিবছরই তারা গরু পালেন। গত বছর গরু বিক্রি করে লাভ হয়েছিল। এ বছর লাভ হবে বলে আশা করছেন। এ বছর গরু চারটি ঢাকার বাজারে তুলবেন। চারটি গরু বিক্রি করে ছয় লাখ টাকার বেশি হবে বলে তিনি মনে করছেন।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্র জানিয়েছে, গত বছর অনেক খামার মালিক গরু বিক্রি করে লোকসান দেন। এ কারণে এবার জেলায় গরুর সংখ্যা কমেছে। গত বছর জেলায় গরুর সংখ্যা ছিল ৭০ হাজার। এবার কমে ৬৫ হাজারে দাঁড়িয়েছে। তবে গরু ও ছাগল মিলে এক লাখ ৩৩ হাজারের বেশি এবার বাজারে উঠবে। গত বছর সব মিলিয়ে এক লাখ ৪৫ হাজার টাকা ছিল। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গো-খাদ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। ঈদ সামনে ব্যবসায়ীরা খাদ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এক হাজার ৫০ টাকার ভুসি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ১৫০ টাকায়। গমের ছাল বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ২০০ টাকায়। আগের তুলনা ৫০ থেকে ১০০ টাকা বেড়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিদ্দীকুর রহমান বলেন, গতবারের তুলনায় গরু কিছুটা কমেছে। খামারিদের গরু পালন ও বর্ষায় যাতে রোগবালাই না হয়, সে জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আর খামারিরা যাতে গরু মোটাতাজা করতে গিয়ে অবৈধ পন্থা অবলম্বন না করেন, সেদিকে লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। আমাদের মাঠকর্মীরা বিষয়টি মনিটর করছে।

জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন বলেন, কুষ্টিয়ার গরুর আলাদা চাহিদা রয়েছে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারে। তাই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খামারিদের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। কেউ যদি অসাধু পন্থায় গরু মোটাতাজা করার চেষ্টা করেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।