বাঁশের খুঁটি দিয়ে সেতু রক্ষার চেষ্টা

নড়াইল

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০১৯      

শামীমূল ইসলাম, নড়াইল

বাঁশের খুঁটি দিয়ে সেতু রক্ষার চেষ্টা

নড়াইলের জরাজীর্ণ সীতারামপুর সেতুটি বাঁশের খুঁটি দিয়ে রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে - সমকাল

নড়াইলের সীতারামপুর-হিজলডাঙ্গা-মুলিয়া সড়কের পাঁচ কিলোমিটার অংশ দিয়ে এখন হেঁটে চলাও কষ্টসাধ্য। বছরের পর বছর সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী থাকলেও সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ সড়কেরই সীতারামপুর সেতুটির পাটাতনের কয়েক জায়গায় রড বের হয়ে গেছে। এটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, সেতুর নিচে বাঁশ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। যন্ত্রচালিত কোনো বাহন সেতুতে উঠলে এটি ভয়ানকভাবে দুলে ওঠে। ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ও খানাখন্দে ভরা এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী আট গ্রামের ১০ হাজার মানুষকে দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। নড়াইলের জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এ সড়ক ও সেতু নির্মাণে শুধুই আশ্বাস দিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

১৬ বছর আগে সদর উপজেলার সীতারামপুর-হিজলডাঙ্গা-মুলিয়া সড়কের পাঁচ কিলোমিটার অংশে ইটের সলিং ও খালের ওপর সেতু নির্মাণ করা হয়। এরপর এ সড়কে আর কোনো সংস্কার করা হয়নি। বর্তমানে এ সড়কের সবকুটুই চলাচলের অযোগ্য। দীর্ঘদিন সড়কটি সংস্কার না করায় বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গর্ত, খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক পিচ্ছিল হয়ে যায়। একই সময় নির্মিত এ সড়কের খালের ওপর অবস্থিত সেতুটিও এখন সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নয় মাস আগে সেতুর পাটাতনের কয়েকটি স্থানে সিমেন্ট-বালু উঠে গিয়ে রড বেরিয়ে গেছে। সেগুলোতে মরিচা পড়ে এখন নষ্ট হওয়ার পথে। সেতুর দু'পাশের গাইড ওয়াল ভেঙে গেছে। যাত্রী বা পণ্যবোঝাই নছিমন উঠলে সেতু দুলতে থাকে। ভেঙে পড়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে সেতুর নিচে বাঁশ-কাঠ দিয়ে ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ওপর দিয়ে যান্ত্রিক বাহন চলাচল দূরের কথা, হেঁটে চলাও দায়।

স্থানীয়রা জানান, শত বছর ধরে ঐতিহ্যবাহী হিজলডাঙ্গা গ্রামে বাংলা পৌষ মাসের শেষ দিন পৌষসংক্রান্তি (স্থানীয়রা এ মেলাকে পাগল চাঁদের মেলা বলে) মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। দেশ-বিদেশ থেকে অর্ধলক্ষাধিক মানুষ এ মেলা উপভোগ করতে আসেন। হিজলডাঙ্গা গ্রামে একটি পুরনো মন্দির, শ্মশান, একটি প্রাইমারি এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। পার্শ্ববর্তী সীতারামপুর ও মুলিয়া গ্রামে দুটি প্রাথমিক এবং একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এখানকার ছেলেমেয়েরা নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজে লেখাপড়া করেন। এ ছাড়া প্রতিদিন সীতারামপুর, দুর্বাজুড়ি, ইচড়বাহা, বাঁশভিটা, হিজলডাঙ্গা, শালিয়ারভিটা, মুলিয়া, পানতিতা গ্রামের কয়েকশ' মানুষ এ সড়ক দিয়ে চাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কাজে জেলা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন।

হিজলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা পৌষসংক্রান্তি মেলার সাধারণ সম্পাদক শিক্ষক স্বপন রায় জানান, নড়াইলের বিভিন্ন জনপ্রতিনিকে সেতু ও সড়কটি পাকাকরণের জন্য ব্যবস্থা নিতে বলা হলেও তারা শুধু আশ্বাস দিয়ে যান।

মুলিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সুজন গাইন বলেন, ১৬ বছর আগে এ রাস্তায় ইটের সলিংসহ সেতু নির্মাণ করা হয়। কাজের মান নিম্ন হওয়ায় দ্রুত এ সড়ক ও সেতু নষ্ট হয়ে গেলেও আর কোনো সংস্কার হয়নি। মুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা রবীন্দ্রনাথ অধিকারী জানান, এই সড়কে ১৬ বছর আগে ইট বিছানো হয়। বছর না যেতেই ইট উঠে যেতে থাকে। এরপর এ সড়কে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিষয়টি এলজিইডির নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিভিন্ন সময় লিখিতভাবে জানানো হলেও কোনো কাজ হয়নি।

নড়াইল এলজিইডি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী  বিধান চন্দ্র সমাদ্দার বলেন, সীতারামপুর-হিজলডাঙ্গা সড়ক এবং সেতুর বিষয়টি তার জানা ছিল না। অগ্রাধিকারভিত্তিক বিভিন্ন প্রকল্পে এ সেতু ও সড়কের নাম দেওয়া হবে জানান তিনি।