জোরপূর্বক অন্যের জমির ওপর রাস্তা নির্মাণ

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০১৯

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ইউপি চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত নারী সদস্য, স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতিসহ এলাকার লোকজনের উপস্থিতিতে দুপুরে চার ঘণ্টাব্যাপী চলে দরবার। এরপর বিকেল থেকে বসতভিটার মধ্যদিয়ে ক্ষমতার জোরেই চলে অন্যের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের কাজ। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ত্রিশালের মঠবাড়ী ইউনিয়নের মঠবাড়ী গ্রামে।

মঠবাড়ী গ্রামের ফজলুল হকের বাড়ির পাশে সাংসদ হাফেজ রুহুল আমিন মাদানীর পিয়ন আসাদুজ্জামান রনির বাড়ি। চার-পাঁচ বছর আগে রনির পরিবার পুরনো ভিটা থেকে সরে পুকুরের ওপারে নতুন করে বসতি গড়ে তোলেন। ওই পুরনো বাড়ির আঙিনা দিয়ে চলাচল করতেন রনির পরিবারের লোকজন। রনিদের বাড়ির পূর্বপাশে ফজলুল হকের বাড়ির পরই আরেকটি রাস্তা রয়েছে, যার দূরত্ব তাদের বাড়ি থেকে একটু কম। ফজলুল হকের বাড়ির আঙিনার ওপর দিয়ে চলাচলের জন্য স্থায়ী রাস্তা দাবি করে রনির পরিবার। ফজলুল হক রাস্তাটি তার বাড়ির আঙিনার মাঝ বরাবর না করে একপাশ দিয়ে দিতে রাজি হন। কিন্তু রনি ফজলুল হকের বাড়ির আঙিনার মাঝখান দিয়েই রাস্তাটি নিয়ে ছাড়বেন বলে চেষ্টা-তদবির করতে থাকেন। এ নিয়ে বেশ কয়েক দফা চলে দেনদরবার। ২২ জুলাই রাস্তা করার জন্য ৮-১০টি চারাগাছ কেটে ফেলেন রনির পরিবারের লোকজন। বৃহস্পতিবার মঠবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল কদ্দুস, নারী সদস্য জোসনা আরা, স্থানীয় আওয়ামী লীগ সভাপতি সামছুদ্দিনসহ এলাকার লোকজনের উপস্থিতিতে দুপুরে চার ঘণ্টাব্যাপী চলে দরবার। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী দরবার শেষে সবাই চলে যাওয়ার পরপরই রনিরা তাদের লোকজন নিয়ে আরও কিছু চারাগাছ কেটে বালু ফেলা শুরু করে। ঘটনাস্থল ত্যাগ করছে পুলিশের পিকআপ ভ্যান ও এমপির পিয়ন রনি। রনিদের অনেক লোকজন সেখানে অবস্থান করছে। ড্রাম ট্রাক দিয়ে বালু ফেলে রাস্তা করা হচ্ছে। এমপির ক্ষমতার জোরে বসতভিটার মধ্যদিয়ে রাস্তা হচ্ছে বলে ফজলুল হকের পরিবারের লোকজন অসহায়ের মতো তাকিয়ে ওইসব দৃশ্য দেখছেন। জমির মালিক ফজলুল হক বলেন, আমার বাড়িসহ পৈতৃক সম্পত্তির আশপাশে কোনো সরকারি হালট নেই। তবু এলাকাবাসীর চলাচলের জন্য বাড়ির সামনের একটি রাস্তার জন্য তিন-চার শতক জমি দিয়েছি। রনিরা তাদের পুরনো ভিটা দিয়ে চলাচল করছে। তারপরও আমি তাদের সহজ চলাফেরার জন্য ভিটার একপাশ দিয়ে রাস্তা নিতে বলেছি। জোরপূর্বক আমার বাড়ির আঙিনার মাঝখান দিয়েই রনি রাস্তা নির্মাণ করছে।

এসব ব্যাপারে সাংসদ হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী বলেন, ওই ছেলেটি সব সময় আমার সঙ্গে থাকে। স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা দেনদরবার হয়েছে বলে আমি জানি। ওসি আজিজুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু ফেলার কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়ে এসেছে।