বারহাট্টা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০১৯

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

বারহাট্টা উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান খানের বিরুদ্ধে শিক্ষকের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও নিয়মবহির্ভূত কাজে আপত্তি করায় হুমকি ধমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে উপজেলার আশিয়ল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম সাজ্জাদুল হক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর বৃহস্পতিবার লিখিত অভিযোগ করেছেন। বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি দেওয়ার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেছেন।

বারহাট্টার আশিয়ল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঁচ শিক্ষকের মধ্যে গত জানুয়ারি থেকে একজন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে ও সহকারী শিক্ষিকা নূপুর আক্তার ২০১৬ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে উপজেলার সিংধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্ত বদলিতে আছেন। অন্য একজন ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ডিপিএড প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করলে আগের প্রধান শিক্ষক বদলির আদেশ বাতিলের আবেদন করেন। কিন্তু এতে কোনো কাজ হয়নি। তার সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন বদলি শিক্ষক ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা। এসএম সাজ্জাদুল হক ওই বিদ্যালয়ে গত ১১ এপ্রিল প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তার চেষ্টায় সংযুক্ত বদলির আদেশটি বাতিল হয়। কিন্তু শিক্ষক নূপুর আক্তার মূল বিদ্যালয়ে এখনও যোগদান করেননি। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে আশিয়ল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু রায়হান খান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আপত্তিকর কথা বলছেন। আবু রায়হান খান ওই শিক্ষককে সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গত ১৫ জুলাই উপজেলার ধনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিকেল ৩টায় ও আশিয়ল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৭ জুলাই দুপুর ১২টার পর সাব ক্লাস্টার প্রশিক্ষণে উপস্থিত হন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা। সংযুক্ত বদলি শিক্ষক অনুপস্থিত থাকার পরও শিক্ষা কর্মকর্তা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। ভারপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকায় সমন্বয় বদলির নামে শূন্যপদে ও বিধিবহির্ভূতভাবে আদেশ দিয়ে শিক্ষকদের হয়রানি করছেন। প্রধান শিক্ষক এসএম সাজ্জাদুল হককে মোবাইল ফোনে গালাগাল করেন। সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবু রায়হান খান একজন শিক্ষকের নামে সরকারি কোয়ার্টার বরাদ্দ নিয়ে বসবাস করে আসছেন।

আবু রায়হান খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কোনো শিক্ষকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করিনি। বদলি শিক্ষক আগের কর্মস্থলে নিরাপদবোধ করেন না। তাকে বলার পরও তিনি আগের কর্মস্থলে যোগদান করছেন না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।