বাঁধের কারণে সেতু ও সড়ক হুমকির মুখে

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০১৯

নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের ঝালুয়া সেতুর নিচ থেকে মাটির বাঁধ সরিয়ে নেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ নেতাকে নির্দেশ দিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। কিন্তু নির্দেশের ২০ দিন পরও ওই নেতার বাঁধ সরানো হয়নি। ফলে পানির তোড়ে সেতুসহ সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সওজের জমিতে নির্মিত হয়েছে ৬৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক। এ সড়ক পথেই ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যানবাহন চলাচল করে। মহাসড়কের নান্দাইল উপজেলার ঝালুয়া বাজারের কাছে অবস্থিত ঝালুয়া সেতু। ওই সেতুর নিচের খাল দিয়ে প্রায় পাঁচটি বিলের পানি প্রবাহিত হয়ে নরসুন্দা নদীতে পড়ে।

নান্দাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাতেম আলী ওই সেতুর পিলারকে কেন্দ্র করে মাটির বাঁধ দিয়ে সওজের অধিগ্রহণকৃত এবং খাস জমিতে বেশ কয়েকটি ব্যক্তিগত পুকুর তৈরি করেছেন। বাঁধের কারণে খালটি সরু হয়ে পানি নিস্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উজানে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্রিজের উত্তর পাশে পানি ফুলে উঠেছে। পানির চাপ বৃদ্ধি পেলেও সরু খালের ভেতর দিয়ে যেতে পারছে না। ওই নেতার বাঁধের কারণে পানি নিস্কাশনের খালে পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় সেতুটি এখন হুমকির মুখে পড়েছে। যে কোনো সময় পানির চাপে সেতুসহ সড়কটি বিলীন হয়ে যেতে পারে। সেতুর নিচ থেকে বাঁধ সরিয়ে নেওয়ার জন্য সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী ৪ জুলাই হাতেম আলীকে একটি চিঠি দেন। চিঠির একটি অনুলিপি নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসাদ্দেক মেহ্‌দী ইমামের কাছেও পাঠানো হয়। নান্দাইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাতেম আলী বলেন, তিনি সওজের চিঠি পেয়েছেন। পানি কমার পর পুকুরের মাছ ধরে বাঁধ সরিয়ে নেবেন বলে জানান তিনি। সওজ কর্তৃপক্স তাকে সময় দিয়েছে বলেও জানান তিনি।

কিশোরগঞ্জের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিউল আলম বলেন, বাঁধ সরিয়ে নেওয়ার জন্য হাতেম আলীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে বাঁধ সরিয়ে না নিলে নির্বাহী হাকিমের সহায়তা নিয়ে অভিযান চালিয়ে অবৈধ বাঁধ অপসারণ করা হবে।