টেন্ডার ছাড়াই রাস্তার গাছ কাটছেন চেয়ারম্যান

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০১৯

খোন্দকার মনিরুজ্জামান মনির, গৌরনদী (বরিশাল)

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া থেকে ছয়গ্রাম পর্যন্ত এলজিইডি নির্মিত গ্রামীণ রাস্তার দু'পাশের রেইনট্রি, মেহগনি, চাম্বলসহ নানা প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছেন উপজেলার মাহিলাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলুসহ স্থানীয়রা। সরকারের কোনো দপ্তরের কর্মকর্তারা এতে বাধা দিচ্ছেন না। এমনকি গাছগুলোর মালিকানাও দাবি করছে না সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান। এ নিয়ে উপজেলাবাসীর মনে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে জাতীয় সংসদের তৎকালীন চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর নির্দেশে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগ মাহিলাড়া থেকে পয়সারহাট ভায়া ছয়গ্রামের এলজিইডি নির্মিত এ গ্রামীণ রাস্তাটিকে অধিগ্রহণ করে উন্নয়নের উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে ১৯৯৯ সালের ২০ এপ্রিল তৎকালীন উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান মাহিলাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে ওই রাস্তার মাহিলাড়া থেকে ছয়গ্রাম অংশের দু'পাশের ৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৫০-৫০ ভাগ মালিকানা চুক্তিতে সামাজিক বনায়নের লক্ষ্যে বনজ গাছের চারা রোপণের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। এরপর তিনি ওই বছরের ১৫ জুনের মধ্যে ওই রাস্তার দু'পাশে রেইনট্রি, মেহগনি, চাম্বল, শিশু, বাবলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির এক হাজার ৮১০টি বনজ গাছের চারা রোপণ করেন। এরই মধ্যে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারালে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগ রাস্তাটি অধিগ্রহণ না করে সেটি আবার এলজিইডিকে ফিরিয়ে দেয়। এর ফাঁকে গাছগুলো বড় হতে থাকে। তবে এর অধিকাংশ গাছ চারা অবস্থাতেই মানুষ কেটে নেয় ও গবাদিপশু ভেঙে ফেলে। দু-তিন সপ্তাহ আগে অবশিষ্ট গাছগুলোর মধ্য থেকে ৬-৭টি গাছ মাহিলাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু কেটে নেন। এরপর তাকে অনুসরণ করে স্থানীয়রা রাস্তার পাশের ওই গাছ কেটে নিতে থাকেন। গত তিন সপ্তাহে চেয়ারম্যান ও স্থানীয়রা আলাদাভাবে ১৬-১৭টি গাছ কেটে নিয়েছেন।

নিলাম বা টেন্ডার ছাড়া চেয়ারম্যান একা কেন গাছ কেটে নিয়েছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে মাহিলাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশ রয়েছে ইউনিয়নের রাস্তাগুলোর পাশের জমিকে আগাছামুক্ত করে তাতে ফলদ বৃক্ষ এবং ঔষধি গাছ লাগানোর। ওই নির্দেশ পালন করতে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ওই রাস্তার পাশের ৬-৭টি গাছ কাটা হয়েছে। আর যাদের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা তৈরি হয়েছে সেসব জমির মালিকরা জমি তাদের, গাছও তাদের- এ দাবি করে নিজেদের উদ্যোগে গাছগুলো কেটে নিয়েছে। সেখানে আমার বা ইউনিয়ন পরিষদের কী করার আছে। গাছগুলো আমি লাগালেও রাস্তার ওই জমি তো এখনও সরকারের নয়। সরকারের কোনো দপ্তর বা বিভাগ রাস্তাটির ওই জমি অধিগ্রহণ করেনি। এলজিইডি রাস্তাটি উন্নয়ন করলেও যার জমির অংশের ওপর দিয়ে রাস্তা গেছে ভূমি জরিপের রেকর্ডে তার নামেই রাস্তার জমির মালিকানার রেকর্ড রয়েছে। সুতরাং সরকারের সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে চুক্তিতে ওই গাছ আমি লাগালেও আমি এবং সরকারের সড়ক ও জনপথ বিভাগ অথবা সরকারের কোনো দপ্তর ওই গাছের মালিকানা দাবি করতে পারছি না। আপনারা সাংবাদিকরাই এ পরিস্থিতি তৈরি করেছেন। ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে ৬-৭টি গাছ কাটার পর আপনাদের খোঁচাখুঁচিতে রাস্তার পাশের জমি মালিকরা জেনে গেছেন, রাস্তার ওই জমির মালিক সরকার নয়, মালিক তারা। এটা জেনেই তারা এখন যার জমির মাথায় রাস্তার গাছ রয়েছে তা কেটে নিচ্ছে।

গৌরনদী উপজেলা প্রকৌশলী অহিদুর রহমান জানান, রাস্তাটি এলজিইডির; কিন্তু গাছ কার তা আমি বলতে পারছি না। এটুকু জানি, এলজিইডির রাস্তার পাশে থাকা সামাজিক বনায়নের গাছ কাটতে হলে উপজেলা পরিষদের সভায় অনুমোদন নিয়ে টেন্ডার বা নিলামের মাধ্যমে গাছ কাটতে হবে।