হত্যার অভিযোগ ছাগলনাইয়ায় লাশ দাফনের ৮ মাস পর উত্তোলন

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০১৯

ছাগলনাইয়া (ফেনী) প্রতিনিধি

ছাগলনাইয়ায় এক কিশোরীর লাশ দাফনের ৮ মাস পর কবর থেকে উত্তোলন করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়েছে ফেনী সিআইডি পুলিশ। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত কিশোরীর মা কোহিনুর বেগমের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত লাশ উত্তোলনের অনুমতি দেন।

গতকাল বুধবার পৌরসভার মটুয়া ওয়ার্ডের গণকবরস্থান থেকে এই লাশ উত্তোলন করা হয়। এ সময় ফেনীর সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষা) জোবাইদা আক্তার উপস্থিত ছিলেন। বাদীর আদালতের আবেদন ও তার আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে বাদী ফেনী সদরের মিজান রোডে ব্যবসায়ী ওয়ালী উল্যার বাসায় ঝিয়ের কাজ করতেন। একপর্যায় নিঃসন্তান দম্পতি বাদীকে প্রস্তাব দেয় তার মেয়ে ফাহিমাকে তাদের দত্তক দিতে। অভাবী কোহিনুর এ প্রস্তাবে রাজি হয়ে মেয়েকে তাদের বাসায় দেয়। কোহিনুর ২০১৮ সালের ৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় গৃহিণী কোহিনুরকে ফোন করে জানায়, তোর মেয়ে মারা গেছে। তারা বিষয়টি ফেনী থানাকে জানালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করে ১৫০০ টাকা কোহিনুরের হাতে দিয়ে লাশ দাফন করতে ছাগলনাইয়ার ভাড়া বাসায় পাঠিয়ে দেয়। কোহিনুর তখন জানিয়েছিল, তাদের জেলা লালমনিরহাটে নিয়ে দাফন করবে। কিন্তু পুলিশের কথায় তারা ছাগলনাইয়ার পৌর কবরস্থানে দাফন করে। বিষয়টি তারা পরে দু'জন আইনজীবী শরফউদ্দিন আহম্মদ ও একরামুল হক ভূঁইয়াকে জানায়। বিষয়টি ফেনী আদালতের নজরে এলে আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রহমান পূর্ণ তদন্তের নির্দেশ দেন সিআইডিকে। সিআইডি গতকাল লাশ উত্তোলন করে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জোবাইদা আক্তার জানান, বাদীর আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য লাশটি উত্তোলন করা হয়েছে। অভিযুক্ত ওয়ালী উল্যাহ দেশের বাইরে থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।