মামলা করায় বাড়িছাড়া ধর্ষিতার পরিবার

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০১৯

বুড়িচং (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা গ্রামে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে কিশোরীকে ধর্ষণ করে তিন যুবক। ধর্ষণের ঘটনায় আদালতে মামলা করলে ধর্ষিতার বাবাকে কুপিয়ে আহত করে ধর্ষণকারীরা। আসামিদের হুমকির মুখে বাড়িছাড়া ধর্ষিতার পরিবার। এদিকে, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও গ্রেফতার করছে না পুলিশ। এসব বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গতকাল বুধবার সকালে এক নিকটাত্মীয়ের বাসায়

সংবাদ সম্মেলন করেন পরিবারের সদস্যরা।

ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়নের ভারেল্লা গ্রামের ধর্ষিতার বাবা ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তার মেয়ে স্থানীয় একটি মিলে চাকরি করেন। মিলে যাওয়া-আসার সময় স্থানীয় কিছু যুবক তাকে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি ও কুপ্রস্তাব দিত। এসব বিষয় স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের অবহিত করলে বখাটেরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। গত শুক্রবার রাতে ওই কিশোরী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য ঘরের বাইরে যান। ওতপেতে থাকা একই এলাকার হুমায়ন ফকিরের ছেলে জসিম উদ্দিন, ওমেদ আলীর ছেলে অহিদ ও ছমেদ আলীর ছেলে সুন্দর আলী মেয়েকে মুখে গামছা পেঁচিয়ে বাড়ির পার্শ্ববর্তী নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষন করে। ধস্তাধস্তির আওয়াজ শুনে তার বাবা ও বোন ঘরের বাইরে এলে ধর্ষণকারীরা মেয়েকে নিয়ে জসিম উদ্দিনের ঘরে নিয়ে আটকে রাখে। এ সময় মেয়েকে উদ্ধার করতে গেলে তাকে পিটিয়ে আহত করে তারা। পরে শিপন নামে এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে পড়িয়ে তাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় এবং বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য হুমকি-ধমকি দেয়। বাড়িতে আসার পর ধর্ষিতার অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের লোকজন তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে চিকিৎসা দেন। ধর্ষকদের ভয়ে দু'দিন বাড়িতে অবরুদ্ধ থেকে তিন দিন পর ধর্ষিতা বাদী হয়ে কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-২-এ মামলা করেন। আদালত বিষয়টি আমলে নিয়ে বুড়িচং থানা পুলিশকে মামলা রেকর্ড করার জন্য নির্দেশ দেন। মামলার খবরে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে হয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। গত সোমবার ধর্ষিতার বাবা বাড়ির সামনে চা দোকানে এলে ধর্ষকরা দলবল দিয়ে দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনার পর সন্ত্রাসীরা ধর্ষিতা ও তার পরিবারের সদস্যদের বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং বাড়িতে এলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। হামলার ঘটনায় ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় একটি মামলা করেন।