বিচারকের অপসারণ দাবিতে আইনজীবীদের আদালত বর্জন

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০১৯

জামালপুর প্রতিনিধি

বিচারকার্যে স্বেচ্ছাচারিতা, আইনজীবীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও অবিচারসুলভ কর্মকাণ্ডের কারণে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম আলী আহম্মেদের অপসারণ দাবিতে আইনজীবীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য আদালত বর্জন শুরু করেছেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে প্রধান বিচারপতি, আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার এবং জামালপুর জেলা ও দায়রা জজের কাছে লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে। আইনজীবীদের আদালত বর্জনের কারণে গত দু'দিন ধরে ওই আদালতের বিচার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন জেলার ৭ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের শত শত বিচারপ্রার্থী। তারা দিনভর আদালত চত্বরে বসে থেকে বিচার না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

জেলা আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম আলী আহম্মেদ এ জেলায় যোগদানের পর থেকেই বিচারকার্যে স্বেচ্ছাচারিতা, আইনজীবীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারসহ অবিচারসুলভ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন। গত মঙ্গলবার আদালতে বিচার চলাকালীন যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ ছাড়াই ওই বিচারক জেলা আইনজীবী সমিতির একাধিকবারের সভাপতি বাকী বিল্লাহর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এতে ক্ষুুব্ধ হয়ে সব আইনজীবী ওই আদালত বর্জন করে সমিতি অফিসে চলে আসেন। পরে জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে সমিতির সম্মেলন কক্ষে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আদালতের বিচারক এম আলী আহম্মেদের অপসারণ ও অনির্দিষ্টকালের জন্য তার আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ বাকী বিল্লাহ বলেন, আইনজীবী সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অভিযুক্ত বিচারকের অপসারণ না হওয়া পর্যন্ত আদালত বর্জন অব্যাহত থাকবে। এ ব্যাপারে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম আলী আহম্মেদ বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি নেই। তবে এ ব্যাপারে তিনি জেলা জজ আদালতের মিডিয়া উইংয়ের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে জেলা জজ আদালতের নাজির আবুল কাশেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জেলা জজশিপে মিডিয়া উইং বলতে কিছু নেই। তা ছাড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো জজও নেই।