ব্যক্তির কৃষিজমিতে সরকারি খাল খনন

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০১৯

আসজাদ হোসেন আজু, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ব্যক্তিমালিকানাধীন কৃষিজমিতে সরকারি খাল খননের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে রাজবাড়ীর সদ্যবিদায়ী জেলা প্রশাসক শওকত আলী সেখানে খাল খনন বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিলেও তার বিদায়ের পর খনন চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

খালের এক জায়গায় নিজেদের জমি রক্ষার জন্য রাজবাড়ীর আদালতে এ নিয়ে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে জমির এক মালিক মামলা করেন। আদালত সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করেন। বিক্ষুব্ধ জনতা গত বৃহস্পতিবার খনন বন্ধ করে দিলেও ঠিকাদারের লোকজন ও পুলিশ গিয়ে তাদের মামলা এবং গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে ফের কাজ শুরু করে বলে অভিযোগ করেন জমির মালিকরা। এ অবস্থায় স্থানীয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গেলে তার নির্দেশে আপাতত খননকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

সরেজমিন জানা গেছে, গোয়ালন্দ উপজেলার ছোটভাকলা ইউনিয়নের অন্তর্গত কাটাখালী খাল থেকে ১৬.৮৭০ কি.মি. খালের খনন প্রকল্প পাস হয়। রাজবাড়ীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ছয় কোটি ৫২ লাখ ৭৪ হাজার ৫৬৯ টাকার এ প্রকল্পের ঠিকাদার ঢাকার টিটিএসএল-এসআরজেভি। কিন্তু কাজটি বাস্তবায়ন করছে রাজবাড়ীর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর আগে কাটাখালীর পিয়ার আলী মোড় এলাকায় খাল খনন করতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান বাদী হয়ে রাজবাড়ীর ঠিকাদার আবুল হোসেন সুজনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে তার জমিতে মাটি কাটার অভিযোগে রাজবাড়ীর আদালতে মামলা করেন।

জানা যায়, জেলা প্রশাসক শওকত আলী সম্প্রতি রাজবাড়ী থেকে বদলি হয়ে যাওয়ার সুযোগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই খালের মাথায় নদী-তীরবর্তী দেবগ্রাম ইউনিয়নের উত্তর কাওয়ালজানী এলাকায় মাটি কাটতে শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় জমির মালিকরা খনন করা এলাকা তাদের রেকর্ডীয় সম্পত্তি দাবি করে খননকাজে বাধা দেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে জমির মালিকদের কাজে বাধা দিতে নিষেধ করে। অন্যথায় মামলা ও গ্রেফতারের ভয় দেখায়।

স্থানীয় কৃষক সাইদ সর্দার, জলিল গাজী, শফিকুল ইসলামসহ অনেকেই জানান, বর্ষার সময় মূল নদী থেকে কাটাখালী খালে পানি প্রবাহিত হলেও এ এলাকা তাদের রেকর্ডীয় দালিলিক সম্পত্তি। সরকার খাস খতিয়ানভুক্ত করেনি। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ড অন্যায়ভাবে এখানে খাল খননের প্রকল্প দিয়েছে।

খননকাজে নিয়োজিত চারটি খননযন্ত্রের মালিক জাভেদ জানান, তিনি ঠিকাদারের নির্দেশে ১০ ফুট গভীর ও তলায় ৫২ ফুট প্রশস্ত করে এখানে এক হাজার ৮০০ মিটার এলাকা খননের কাজ করছেন। জনগণ বাধা দিলেও তিনি তাদের বাধা মানতে রাজি নন। তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেনের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

ছোটভাকলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন, ওখানকার জমি সরকারি খালভুক্ত। লোকজন অন্যায়ভাবে সরকারি কাজে বাধা দিচ্ছে। এলাকার চেয়ারম্যান হিসেবে প্রশাসনের নির্দেশে তিনি কাজটি দেখাশোনা করছেন।

ইউএনও রুবায়েত হায়াত শিপলু বলেন, কৃষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার থেকে সেখানে খননকাজ বন্ধ করে দিয়েছি। প্রকল্পটি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের অগ্রাধিকারভিত্তিক একটি প্রকল্প। এ কাজে কোনো ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ক্ষতি হতে দেওয়া হবে না।