মসজিদ-মন্দির প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

বরিশাল ব্যুরো

মসজিদ ও মন্দিরের নামে বরাদ্দ করা টাকা

আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য (৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড) দিপালী হালদারের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জল্লা ইউনিয়নের মুন্সীরতাল্লুক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নামে ১ লাখ ২০ হাজার এবং পশ্চিম কারফা শিশির হালদারের বাড়ির কালীমন্দিরের নামে ১ লাখ ১৯ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। মুন্সীরতাল্লুক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ নির্মাণ কাজের প্রকল্প সভাপতি করা হয় মসজিদ

কমিটির সভাপতি মোফাজ্জেল হোসেন মল্লিককে। আর কালীমন্দির নির্মাণ প্রকল্প কমিটির সভাপতি করা হয় রবীন্দ্রনাথ বিশ্বসকে।

মোফাজ্জেল হোসেন মল্লিক ও রবীন্দ্রনাথ রায় জানান, প্রকল্প দুটির কাজ করানোর জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সোনালী ব্যাংক উজিরপুর শাখায় চেক ইস্যু করেন। ১৯ জুন সংরক্ষিত ইউপি সদস্য দিপালী হালদার ওই দুই প্রকল্পের চেয়ারম্যানকে নিয়ে পিআইওর কার্যালয়ে যান। সেখানে দু'জনে স্বাক্ষর করে চেক তুলে দিপালী হালদারের কাছে দেন। দিপালী হালদার চেক পাওয়ার পর ব্যাংক থেকে টাকা তুলে দিতে টালবাহানা শুরু করেন। মোফাজ্জেল মল্লিক অভিযোগ করেন, মসজিদের জন্য বরাদ্দের টাকা চাইলে দিপালী হালদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাসের অভিযোগ, মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়ে দিপালী হালদার তাকে মন্দির নির্মাণের প্রস্তাব দেন। পুরো টাকা চাইলে তিনি জানান, বরাদ্দের টাকা থেকে সংশ্নিষ্ট সরকারি দপ্তর, দল ও পরিষদের সদস্যদের টাকা দিতে হয়। তাই ১০ হাজারের বেশি টাকা দেওয়া যাবে না। বিষয়টি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার জল্লা শহীদ স্মরণিকা মার্কেটের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মল্লিকের কার্যালয়ে সমঝোতা বৈঠকও হয়। বৈঠকের দিন দিপালী হালদার মসজিদ নির্মাণের জন্য ২৫ হাজার এবং মন্দিরের জন্য ১০ হাজার টাকা দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগে বলা হয়েছে, দিপালী হালদার বাকি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তবে অভিযোগ প্রসঙ্গে দিপালী হালদার বলেন, যাদের নামে চেক হয়েছে তারাই স্বাক্ষর করে টাকা তুলেছেন। তিনি কোনো টাকা তোলেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আক্তার বলেন, মসজিদ ও মন্দির নির্মাণ প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের ব্যাপারে দিপালী হালদারের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।