শিক্ষকশূন্য বিদ্যালয় গেটে ঝুলছে তালা

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

জামালপুর প্রতিনিধি

ইসলামপুরের সেই চরবরুল সরকারি প্রাইমারি স্কুলটি গত চারদিন ধরে শিক্ষকশূন্য রয়েছে। ফলে স্কুলের গেটে ঝুলছে তালা। অথচ স্কুলটিতে কাগজে-কলমে শিক্ষক রয়েছেন পাঁচজন। শিক্ষকদের নিয়মিত অনুপস্থিতি ও স্কুলটি তালাবদ্ধ থাকার কারণে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারি এই প্রাইমারি স্কুলের বেহাল দশা চলে এলেও দেখার যেন কেউ নেই।

ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ১০নং চরবরুল সরকারি এ প্রাইমারি স্কুলটিতে শিক্ষার্থী রয়েছে প্রায় দেড়শ'। কাগজে-কলমে শিক্ষক রয়েছেন পাঁচজন। ১ থেকে ৪ জুলাই চার দিন স্কুলে কোনো শিক্ষক আসেননি। স্কুলের ভাড়াটে শিক্ষক রফিজল না আসায় স্কুলের তালাও খোলা হয়নি। টানানো হয়নি জাতীয় পতাকা। প্রধান শিক্ষক রমজান আলী ও তার স্ত্রী শাহিদা ইয়াসমিন থাকেন জামালপুর শহরের নিজ বাসায়। অন্য শিক্ষকরা থাকেন ভিন্ন জেলায় স্বামীর কর্মস্থলে। তাই ছাত্রছাত্রীদের পাঠদানের জন্য শিক্ষকরা মিলে পাঁচ হাজার টাকা বেতনে রফিজল নামে পঞ্চম শ্রেণি পাস একজন প্রক্সি শিক্ষক রেখে দিয়েছেন। সম্প্রতি সমকালে ওই প্রক্সি শিক্ষকের ছবিসহ প্রতিবেদন ছাপা হওয়ায় ওই শিক্ষক স্কুলে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। এর পর থেকে শিক্ষকের অভাবে প্রায় দিনই স্কুলটি বন্ধ থাকছে। ফলে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলে এসে মাঠে হৈহুল্লোড় করে ফিরে যাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্নিষ্ট ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এটিও খোরশিদ আলমের সঙ্গে শিক্ষকদের বেতনের টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়ার কারণে বেতন-ভাতাসহ সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা নিয়মিত ভোগ করে যাচ্ছেন স্কুল ফাঁকিবাজ ওই শিক্ষকরা।

স্কুলের জমিদাতা সাবেক মেম্বার আব্দুল হাই, ছাত্র অভিভাবক আবুল কালাম ও ইব্রাহিম বলেন, মাস্টাররা না আসায় তারা স্কুলের চাবি রেখে যান ছাত্রছাত্রীর বাড়িতে। তারা নিজেরাই মাঝে মধ্যে স্কুলের গেটের তালা খুলে হৈচৈ আর দৌড়ঝাঁপ করে ফিরে যান। এ ব্যাপারে টিইও এবং ডিপিওর কাছে শত অভিযোগ করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। ফলে চরাঞ্চলের কোমলমতি শত শত শিক্ষার্থীর পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

প্রক্সি শিক্ষক রফিজল হক বলেন, আগে আমি একাই প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান করতাম। প্রক্সি শিক্ষক হিসেবে পত্রপত্রিকায় আমার ছবি ও নাম আসার পর আমি স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। ক'দিন ধরে স্কুলে কোনো শিক্ষক না আসার কারণে আজ (বৃহস্পতিবার) আমার ভাতিজাকে স্কুল থেকে নিয়ে এলাম।

স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, যাতায়াতের অব্যবস্থাপনার কারণে চরাঞ্চলের স্কুলগুলোতে শিক্ষকরা ঠিকমতো আসেন না, এটা আমরা জানি। কিন্তু শিক্ষক না আসায় দিনের পর দিন স্কুলে তালা ঝুলবে, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ থাকবে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে শিক্ষা বিভাগের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধান শিক্ষক রমজান আলী স্কুলে শিক্ষক অনুপস্থিতির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ক'দিন ধরে আমি জ্বরে ভুগছি। অন্য শিক্ষকদের আমি স্কুলে যেতে বলেছিলাম। কিন্তু তারাও স্কুলে যাননি বলে শুনেছি।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান সমকালকে বলেন, স্কুলে না যাওয়ার কারণে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ সব শিক্ষককে একাধিকবার শোকজ করা হয়েছে। এর পরও তারা স্কুলে যাচ্ছেন না। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে শিগগিরই ফাঁকিবাজ ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।