উধাও রেলের পাথর ঝুঁকিতে চলাচল

প্রকাশ: ০৫ জুলাই ২০১৯

উজ্জল চক্রবর্ত্তী, গাইবান্ধা

গাইবান্ধা রেলওয়ে স্টেশনের উত্তর ও দক্ষিণ দিকে রেললাইনের উভয় পাশে লাইন ঘেঁষে অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে বসতি। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রেললাইনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ এবং চুরি হয়ে যাচ্ছে রেলপথের পাথর। রেললাইনের মাটি কেটে এসব বসতবাড়ি গড়ে তোলার ফলে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে রেল চলাচল। অথচ রেল কর্তৃপক্ষ নির্বিকার।

অভিযোগে জানা গেছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের ভূ-সম্পদ বিভাগের ৩নং কাচারির রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের যোগসাজশে এসব অবৈধ বসতি গড়ে উঠছে। রেলওয়ের জায়গায় বেআইনিভাবে বসবাসকারীরা নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে এসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছে বলেও জানা গেছে।

ওইসব এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, উত্তর দিকে রেলওয়ের পল্গ্যাটফর্ম লাগোয় পূর্ব পাশে অবৈধ দখলদাররা ১১টি বসতবাড়ি নির্মাণ করেছে। এসব বসতবাড়িতে বসবাসকারী অনেকেই রীতিমতো খড়ের পুঞ্জ দিয়ে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগির খামার গড়ে তুলেছে। এসব গরু, ছাগল রেললাইনের ধারেই বেঁধে রাখা হয়, যা ট্রেন চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

অন্যদিকে, পশ্চিম পাশে একটি বিশাল গোডাউন গড়ে তোলা হয়েছে। যেখানে অবৈধভাবে মালপত্র রাখা হচ্ছে। এ ছাড়া খড়ের স্তূপ, ধান শুকানো, ধান মাড়াই, খড় শুকানোর সব কাজ রেললাইনের ধারে এবং পল্গ্যাটফর্মেই সম্পন্ন করে এই অবৈধ বসবাসকারীরা। এতে পল্গ্যাটফর্মে যাত্রীদের হেঁটে বেড়ানো বা ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করাও অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখান থেকে রেলপথের মূল্যবান পাথর চুরি করেও অন্যত্র বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে রেললাইনগুলো পাথরশূন্য হয়ে পড়েছে। অথচ পাথরশূন্য লাইন দিয়ে রেল চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হলেও রেল কর্তৃপক্ষের তা নজরেই পড়ছে না।

রেললাইনের পাশ ঘেঁষে অধিকাংশ এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছে ইট ভেঙে খোয়া বানানো, বালু এবং সুরকি কেনাবেচার রমরমা ব্যবসা। এ ছাড়া রেললাইনের এসব এলাকায় এবং আশপাশের এলাকাজুড়ে গাঁজা, চোলাই মদ, হেরোইন, ইয়াবাসহ নানা মাদকদ্রব্য বিক্রি এবং অসামাজিক কার্যকলাপও চলছে বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার আবুল কাশেম সরকারের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, শুধু রেলওয়ে স্টেশন এবং পল্গ্যাটফর্ম সংলগ্ন এলাকাই তার নিয়ন্ত্রণে। রেললাইনের পাশের অবৈধ দখলের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব রেলওয়ের ভূ-সম্পদ বিভাগের। এ ব্যাপারে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথারীতি লিখিতভাবে অবহিত করেছেন বলে উলেল্গখ করেন।

গাইবান্ধা রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ের ভূ-সম্পদ বিভাগের ৩নং কাচারি অফিসে গিয়ে অফিসটি বন্ধ পাওয়া যায়। পার্শ্ববর্তী লোকজন জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত আমিন মো. আব্দুল মোমিন বামনডাঙ্গা স্টেশনে দায়িত্ব পালনে গেছেন। তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে মাসোহারা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এসব অবৈধ দখলদারের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব বাংলাদেশ রেলওয়ের পিডব্লিউ ও আইডব্লিউ বিভাগের। তবুও তিনি এসব অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন।