ভিজিএফের ২৮০ বস্তা চাল গায়েব

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০১৯

কলারোয়া (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

কলারোয়া পৌরসভায় অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের জন্য সরকারের দেওয়া ২৮০ বস্তা চাল গায়েব হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার পৌরসভা চত্বরে উপস্থিত ১০-১২ অসহায় ও হতদরিদ্র কার্ডধারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাদের মাথাপিছু ১৫ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও ওজনে প্রায় চার কেজি চাল কম দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পরিস্থিতি ঘোলাটে হওয়ার সংবাদ পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেখানে উপস্থিত হয়ে বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা জানতে পারেন। সে সময় কয়েকজন পৌর কাউন্সিলর ভিজিএফ কার্ডধারীদের চাল কম দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

চাল কম পাওয়া কার্ডধারী কয়েকজন অভিযোগ করেন, বিগত দু'দিন পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের তিন হাজার ৮১টি ভিজিএফ কার্ডধারীর মধ্যে জনপ্রতি ১৫ কেজি চাল বিতরণের কথা থাকলেও প্রকৃতপক্ষে তাদের মধ্যে প্রায় চার কেজি করে চাল কম দেওয়া হয়। তাদের কেউ ১১ কেজি, কেউ ১১ কেজি ৮২ গ্রাম, কেউ ১১ কেজি ৬শ' গ্রাম, কেউ ১১ কেজি ৭শ' গ্রাম করে চাল পেয়েছেন। ১৫ কেজির স্থলে জনপ্রতি ১১ কেজি থেকে ১১ কেজি ৭শ' গ্রামের মতো চাল দিয়ে বাকি তিন কেজি ৩শ' গ্রাম থেকে চার কেজি করে চাল কম দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সেই হিসাবে প্রায় ১৪ হাজার কেজি বা ২৮০ বস্তা চাল গায়েব করা হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়র মনিরুজ্জামান বুলবুল বলেন, আমার জানামতে চাল বিতরণের প্রথম দিন বুধবার কোনো অনিয়ম হয়নি। একজন কাউন্সিলরের বরাত দিয়ে জনপ্রতি কিছু চাল কম দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। চাল গায়েব হওয়ার বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত মেয়র বলেন, কোনো চাল গায়েব হয়নি। সামান্য ত্রুতি-বিচ্যুতি হয়েছে।

ইউএনও আর এম সেলিম শাহনেওয়াজ বলেন, খবর পেয়ে পৌরসভায় গিয়ে উপস্থিত কার্ডধারীদের চাল কম দেওয়ার বিষয়ে সত্যতা পাই। চাল কোথায় গেল এবং কেন কম দেওয়া হলো এ বিষয়ে সচিবের কাছে জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ করতে ভারপ্রাপ্ত মেয়রকে বলা হয়েছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু বলেন, এত চালের অনিয়ম হওয়ার কথা নয়। এর পেছনে বড় কোনো অদৃশ্য কারণ বা হাত থাকতে পারে।