কালা মিয়ার পা কর্তন

আসামিদের হুমকিতে আতঙ্কে পরিবার

বাঞ্ছারামপুর

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০১৯      

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

আত্মীয়-স্বজনের সহযোগিতায় কোনো রকমে বেঁচে আছি। তার ওপর বাশারের আত্মীয়-স্বজন ও তার দলের লোকজনের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। আমার ও পরিবারের সদস্যদের জীবন নিয়ে শঙ্কিত- এভাবেই কথাগুলো বললেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ছেলের সামনে ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ কুপিয়ে কেটে নিয়ে যাওয়া কালা মিয়া। ঈদের দিন ছেলেমেয়েদের সেমাই খাওয়াতে পারব কি-না, তাও বলতে পারছি না। একদিকে সংসারে অনটন, অন্যদিকে আসামিদের নানা রকম হুমকির কারণে বাড়ি থেকে বের হতে পারি না। ঘটনার তিন মাস ২৩ দিন পার হলেও কালা মিয়ার কেটে নিয়ে যাওয়া ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশ এখনও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। কালা মিয়া মৃত্যুর আগে কাটা পা দেখে যেতে চান। ঘটনার পর থেকে অনেকটা অবরুদ্ধ কালা মিয়ার পরিবার। বাশারের অনুসারীরা তার বৃদ্ধ মাকে পিটিয়ে পা ভেঙে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কালা মিয়া। আসামি পক্ষের লোকজনের হুমকিতে কালা মিয়া ও তার পরিবার আতঙ্কে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি কালা মিয়া। তার পা কেটে নিয়ে যাওয়ায় তিনি কোনো কাজ করতে পারছেন না।

গত ১৯ এপ্রিল স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আবুল বাশার ও তার লোকজন কালা মিয়া আর তার ছেলে বিপ্লব মিয়াকে রূপসদী গ্রামের কান্দাপাড়া এলাকায় দা, ছেনি, শাবল, লোহার রড, টেঁটা, লাঠিসোটা ইত্যাদি দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হত্যা করার উদ্দেশে মারধর করে। একপর্যায়ে কালা মিয়ার ডান পায়ের উরুতে টেঁটাবিদ্ধ করে। আর বিপ্লবকে ডান হাতের কনুইয়ের নিচে দুটি টেঁটাবিদ্ধ করা হয়। পরে বিপ্লবের দুই পায়ের রগ কেটে দেয় হামলাকারীরা। আর এক পর্যায়ে কালা মিয়ার ডান পায়ের হাঁটুর নিচের অংশে কুপিয়ে আলাদা করে নিয়ে যায় তারা। এ ঘটনার পরপর আবুল বাশারকে প্রধানসহ ১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন কালা মিয়ার স্ত্রী সালমা আক্তার। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়। ২২ এপ্রিল বাশারকে দলীয় পদ থেকে বহিস্কার করা হয়।

২৫ এপ্রিল ঢাকার সানারপাড়া থেকে আবুল বাশার, তার বড় ভাই মনির হোসেন ও দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করে বাঞ্ছারামপুর থানা পুলিশ। ২৫ এপ্রিল কান্দাপাড়া থেকে আসামি ফারুক মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।