জমজমাট পশুর হাট

দাম কিছুটা বেশি হলেও ক্রেতার সাধ্যের মধ্যেই

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৯     আপডেট: ১১ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল ডেস্ক

সারাদেশে কোরবানির পশুর হাটগুলো শেষ মুহূর্তে এসে জমে উঠেছে। পশুর দাম কিছুটা বেশি হলেও ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যেই রয়েছে।

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :

দিনাজপুর :ভারত সীমান্তবেষ্টিত জেলা দিনাজপুরে এবার ভারতীয় গরু প্রবেশ করতে না পারায় এখন পর্যন্ত জেলার ৬০ হাজার খামার মালিকের পশুর দখলেই আছে দিনাজপুরের দেড় শতাধিক পশুর হাট। দিনাজপুরে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কোরবানির পশু বেচাকেনা। ভারতীয় গরু না আসায় ভালো দাম পাওয়ায় কিছুটা হলেও খুশি জেলার গরুর খামার মালিকরা। আর দাম সহনশীল পর্যায়ে থাকায় সাধ্যের মধ্যে কোরবানির পশু কিনতে পেরে স্বস্তিতে ক্রেতারা।

দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শাহিনুর আলম জানান, দিনাজপুর জেলায় কোরবানি ঈদ উপলক্ষে ৮২ হাজার ৩৩০টি গরু ও ২৬ হাজার ছাগলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু দিনাজপুর জেলার ছোট-বড় মিলিয়ে ৬০ হাজার ৫২০ জন খামার মালিক এবার কোরবানি উপলক্ষে ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৬৫টি গরু এবং ৭১ হাজার ২৪৯টি ছাগল প্রস্তুত করেছেন। জেলার চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ৮৩ হাজার কোরবানির পশু দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।

দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে দেড় শতাধিক কোরবানির পশু বেচাকেনার হাট বসে। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার দিনাজপুরের অন্যতম বৃহত্তম পশুর হাট রেলবাজার এবং গত শনিবার জেলার বৃহত্তম কাহারোল হাটে গিয়ে দেখা যায় ভারতীয় গরুর তেমন উপস্থিতি নেই। হাট দখল করে আছে দেশি গরু। প্রথম অবস্থায় দাম কিছুটা কম থাকলেও ঈদ ঘনিয়ে আসায় শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে পশুর দাম। পশু ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী জানান, গত কয়েকদিন আগে যে গরু ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা ছিল, সেই গরু বৃহস্পতিবার রেলবাজার হাটে বিক্রি হয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকায়। ভারতীয় গরু এবার সীমান্ত দিয়ে না আসায় দেশি গরুর দখলেই রয়েছে পশুর হাটগুলো। এ কারণে তারা ভালো দাম পাচ্ছেন বলে জানালেন খামার মালিকরা।

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ক্রেতা নজরুল ইসলাম জানান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে গত বছরের তুলনায় যে হারে দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা ছিল সে তুলনায় দাম বাড়েনি। পছন্দের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তারা একটু বেশি দামে কিনলেও স্বস্তি রয়েছে তাদের মধ্যে।

মিঠাপুকুর (রংপুর) :শেষ মুহূর্তে জমজমাট কেনাবেচা চলছে মিঠাপুকুরের কোরবানির পশুর হাটগুলোয়। হাটে গরু উঠেছে প্রচুর পরিমাণে। বিক্রিও হচ্ছে ভালো।

সরেজমিন শঠিবাড়ী হাট, শুকুরেরহাট, বৈরাতীহাট, জায়গীরহাট, বালুয়াহাটসহ বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, প্রচুর পরিমাণে গরু উঠেছে। ক্রেতাও বেশি। এবার দেশি গরুতেই ঝুঁকছেন ক্রেতারা। তবে গতবারের চেয়ে দাম একটু বেশি। ১৫টিরও বেশি স্থানে বসেছে গুরুর হাট। এসব হাটে প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ হাটে। উপজেলার বৃহত্তম শঠিবাড়ী হাট ইজারাদার নুরুল ইসলাম প্রামাণিক লালন বলেন, যে কোনো বছরের তুলনায় এবার এই হাটে সবচেয়ে বেশি গরু বেচাকেনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত একটানা ৮ ঘণ্টায় দেড় সহস্রাধিকেরও বেশি গরু কেনাবেচা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) :ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। রোববার বোয়ালমারী পৌর সদরের সাপ্তাহিক পশুর হাটের পরে কমলেশ্বরদী, বড়গাঁ, সহস্রাইল, সাতৈর, ময়েনদিয়া বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে চলছে বেচাকেনা। চাহিদার তুলনায় গরু-ছাগলের সরবরাহ বেশি হওয়ায় হাটগুলোতে পশু উঠছে প্রচুর। দামও ক্রেতাদের হাতের মুঠোয়। সে কারণে বেচা-বিক্রি অনেক ভালো। বেচা-বিক্রি ভালো হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতারাও খুশি। মুক্তিযোদ্ধা কেএম জহুরুল হক বলেন, বাজারগুলোতে প্রচুর পরিমাণ গরু-ছাগল উঠেছে। দামও ক্রেতাদের আওতার মধ্যে। একটু ভালো মানের গরু হলেই এক থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত দাম হচ্ছে। ছোট খাসি ১০ হাজার টাকা, মাঝারি মানের একটি খাসির দাম ১৫ থেকে ২৫ হাজার টাকা। বড় গরুও উঠছে বাজারে। উপজেলার ফেলাননগর গ্রামের বাবু মিয়ার কালো রঙের গরুটির দাম হাঁকা হচ্ছে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আড়াই লাখ টাকা দাম হয়েছে বলে জানান বাবু মিয়া। কলারন গ্রামের মোস্তাক শেখের লাল রঙের একটি গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম শামীম হাসান বলেন, কোরবানির পশুর হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তার বিষয়টি সার্বক্ষণিক মনিটর করা হচ্ছে। জাল নোটের কারবারিদের ব্যাপারেও পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

পটুয়াখালী :কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পটুয়াখালীর পশুর হাটগুলো জমে উঠলেও দাম বেশি হওয়ায় বেচাকেনা খুবই কম। এসব পশুর হাটে উত্তরাঞ্চল থেকে বেশকিছু গরু এলেও ভারতীয় কোনো গরু এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি। তবে বাজারে আসা গরুর বেশির ভাগই স্থানীয় খামারিদের। তাই ভালো দাম পাওয়ার আশায় রয়েছেন বিক্রেতারা। হাতে কিছুটা সময় থাকায় খানিকটা দাম কমার প্রত্যাশায় রয়েছেন ক্রেতারা। তবে পটুয়াখালীর প্রতিটি পশুর হাটে নির্বিঘ্নে বিক্রেতারা প্রকৃত মূল্যে পশু বিক্রি এবং ক্রেতারা তাদের সাধ্যমতো পশু ক্রয় করে সুষ্ঠুভাবে কোরবানি দিতে পারবেন, এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

গরু বিক্রেতা মো. কবির হোসেন বলেন, 'আমি হাটে ১০টি গরু এনেছি এর মধ্যে মাত্র তিনটি গরু বিক্রি করতে পেরেছি। হাটে ক্রেতা আছে অনেক; কিন্তু এ বছর দাম একটু বেশি হওয়ায় ক্রেতারা বাজার যাচাই-বাছাই নিয়েই ব্যস্ত। আশা করি শেষ দু'দিন শনি ও রোববার ভালো বেচাকেনা হবে।'

ক্রেতা অ্যাডভোকেট মো. হারুন আর রশিদ বলেন, 'হাটে গরু অনেক; কিন্তু বিক্রেতারা দাম বেশি চাওয়ায় আমরা ক্রেতারা গরু ক্রয় করছি না। সবাই বাজার যাচাই করে দেখছেন।'