সড়কে হাঁটুপানি, দুর্ভোগ

দুর্গাপুর-কলমাকান্দা

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০১৯     আপডেট: ১১ আগস্ট ২০১৯      

খলিলুর রহমান শেখ, নেত্রকোনা

দুর্গাপুর-কলমাকান্দা সড়ক দুই উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র সড়ক। প্রতিদিন দুই উপজেলার হাজারো মানুষ, যানবাহন, অ্যাম্বুলেন্সসহ সবকিছুই যাতায়াত করছে এই সড়ক দিয়ে। কয়েক বছর ধরে এ সড়কটিতে যাত্রীর চাপ বাড়ায় দিন দিন যানবাহনের সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু সড়কটির কোনো উন্নয়ন হয়নি।

সড়কটি উন্নয়নের লক্ষ্যে এলজিইডির আওতায় দুর্গাপুর- কলমাকান্দা পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার নতুন করে সংস্কারের জন্য মোট তিনটি প্যাকেজে সাড়ে ২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়, যা ২০১৮ সালের ৫ আগস্ট থেকে শুরু করে চলতি বছরের ৬ মে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও কাজ শেষ হয়নি।

দুর্গাপুর উপজেলার প্রেস ক্লাব মোড় থেকে কলমাকান্দা পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার রাস্তার কিছু অংশে কাজ শেষ হলেও অধিকাংশই ম্যাকাডম করে রাখায় বৃষ্টিতে ওই রাস্তায় সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। দুটি উপজেলার যোগাযোগের একমাত্র সড়কটি এ অবস্থায় পড়ে থাকায় ওই এলাকার ঘরমুখো মানুষের ঈদের আনন্দ বিলীন হতে চলেছে। ঠিকাদারদের গাফিলতি ও সড়ক সংস্কারের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তাদের উদাসীনতার জন্যই এমনটি ঘটছে বলে জানান এলাকাবাসী। রাস্তার আশপাশের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও পড়েছে এর প্রভাব। ঈদুল আজহায় পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ করতে আসা যাত্রীরা পড়েছেন নানা বিড়ম্বনায়। রাস্তার বেহালদশার কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারছে না। দুর্গাপুর থেকে কলমাকান্দা মাত্র ২৫ কিলোমিটার এ সড়ক পাড়ি দিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ও দ্বিগুণ ভাড়া পড়িশোধে গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে যাত্রীদের। এ নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডলি কনস্ট্রাকশন লিমিেেডর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, কোনো কর্মকর্তাই কথা বলতে রাজি হননি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এ কাজের জন্য ডলি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংস্কার কাজ শুরু করে। এর মাঝে দুর্গাপুর-নাজিরপুর পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার একটি প্যাকেজ ও নাজিরপুর- কলমাকান্দা বাজার পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার বাকি দুটি প্যাকেজের কাজ ধরা হয়, যা চলতি বছরের ৬ মে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত দুই মাস পার হয়ে গেলেও এখনও সড়কের বেশিরভাগ অংশের কাজই বাকি রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

কান্দাপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী আবদুল করিম বলেন, ময়মনসিংহ থেকে গাড়ি নিয়ে এক ঘণ্টায় দুর্গাপুর আসতে পেরেছি। আর দুর্গাপুর থেকে ১৪ কিলোমিটার নিজ গ্রাম কান্দাপাড়ায় যেতে সময় লাগল প্রায় দুই ঘণ্টা। সড়কের মাঝে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় সাধারণ মানুষ হেঁটে চলাচল করবে তারও কেনো উপায় নেই। ২-৩ মাস আগে রাস্তায় নিম্নমানের ইটের খোয়া ফেলে গেছে, এর পর ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কোনো লোককে আর দেখা যায়নি।

দুর্গাপুর উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল আলীম লিটন বলেন, কাজটি আরও দুই মাস আগেই শেষ হওয়ার কথা ছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অবহেলার দরুন এখনও শেষ হয়নি। আমরা ওই প্রতিষ্ঠানের ওপর বহু চাপ সৃষ্টি করার পরও বিষয়টি আমলে নেওয়া হয়নি। ঈদুল আজহা উপলক্ষে সড়কে যাত্রীর চাপ বেড়েছে, তার ওপর এখন বর্ষাকাল, সড়কে একটু পানি জমলেই সৃষ্টি হয় খানাখন্দের। তবে আমরা চেষ্টা করছি যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘব করে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করে তোলার জন্য।

দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা খানম বলেন, দুর্গাপুর থেকে কলমাকান্দা যাওয়ার প্রয়োজন থাকলেও কেউ যেতে চায় না। রাস্তার খারাপ অবস্থা থাকায় ২৫ কিলোমিটার রাস্তা যেতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগে যায়। যথাসময়ে রাস্তার কাজ শেষ করার জন্য এরই মধ্যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে বারবার তাগিদ দেওয়ার পরও কোনো কাজ করছে না। মানুষের ভোগান্তির কথা ভেবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর পরও কোনো কাজ না হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।