পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ, ভোগান্তি

হোগলা-রঘুনাথপুর সয়না সড়ক

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৯      

মো. নজরুল ইসলাম, স্বরূপকাঠি (পিরোজপুর)

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার হোগলা-রঘুনাথপুর-সয়না সড়কের নির্মাণকাজ পাঁচ বছরেও সম্পন্ন হয়নি। এক বছরের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও তা সম্পন্ন না হওয়ায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকাবাসী। ২০১৫ সালে তৎকালীন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সড়কের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। এরপর ঠিকাদার কাজ শুরু করে দক্ষিণ শীর্ষা সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত বালু ফেলে তার ওপর পুরনো রাস্তার ইটের খোয়া বিছিয়ে রেখেছেন। ফলে এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে, যা দিয়ে যানবাহন তো দূরের কথা, হেঁটেও মানুষ চলাচল করতে পারছে না। ঠিকাদারের গাফিলতিতে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

সয়না রঘুনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান মন্টু বলেন, এ সড়কটি ভাঙার পূর্বে মানুষ মোটামুটি হেঁটে চলাচল করতে পারত। এখন ইটের খোয়া ফেলে রাখায় তাও সম্ভব হচ্ছে না।

ওই কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঊর্মি এন্টারপ্রাইজের নামে বাস্তবায়ন করছেন সঞ্জিত সাহা ও তার শরিকরা। সঞ্জিত সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এতদিন রোলার পাওয়া যাচ্ছিল না, এখন রোলার পাওয়া গেছে। ঈদের পরে তা সাইডে নেওয়া হবে। ঈদের পর কাজ করে শেষ করা হবে। এতদিন রোলার পাওয়া যাচ্ছে না- এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, মাঝখানে একটা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছিল বিধায় কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

কাউখালী উপজেলা প্রকৌশলী হরসিত সাহা জানান, হোগলা-রঘুনাতপুর-সয়না সড়কটি কার্পেটিং করার কাজ চলমান। তিনি ওই উপজেলায় যোগদানের চার বছর পূর্বে ২০১৫ সালে বিডিআরআইবিপির অধীনে এক কোটি ৪৪ লাখ টাকা চুক্তিতে মেসার্স ঊর্মি এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। তিনি আরও বলেন, অফিসের ফাইল থেকে জানা গেছে, ওই কাজের ৭৫ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে। তবে কাজটি ঊর্মি এন্টারপ্রাইজের নামে হলেও বাস্তবায়ন করছেন কাউখালীর সঞ্জিত সাহা ও তার শরিকরা।

পিরোজপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সুশান্ত রঞ্জন রায় বলেন, এতদিন রোলার পাওয়া যায়নি বলে কাজ করতে পারেননি ঠিকাদার। তবে ঈদের পর রোলার পাওয়া যাবে তখন কাজ করবেন ঠিকাদার। এতদিন কেন করেননি- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফান্ড ছিল না তাই ঠিকাদার কাজ করেনি। কী পরিমাণ অগ্রগতি ও কত টাকার বিল তোলা হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান তিনি।