২ বছর পর সেই ডাক্তারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৯      

নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

সরকারি মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে চাকরি করেন তাসলিমা বেগম। তার মেয়ে সিনথিয়া ইসলাম গর্ভধারণ করার পর থেকে মায়ের কর্মস্থল পিরোজপুর সরকারি মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত ডাক্তার হংসপতি শিকদারের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতেন। এক পর্যায়ে ডাক্তার হংসপতি শিকদার সিনথিয়া ইসলামকে সিজার করার জন্য তার মালিকানাধীন প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু প্রসূতি সিনথিয়া ইসলাম ডাক্তারের পরামর্শ না মেনে সিজারের জন্য পিরোজপুর সরকারি মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি হন। সেখানে কর্তৃপক্ষ সিজারের জন্য যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করে প্রসূতিকে অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) নিয়ে ডাক্তার হংসপতি শিকদারকে ডাকা হয়। ওটির টেবিলে সিনথিয়া ইসলামকে দেখে ডাক্তার হংসপতি রেগে যান এবং সেখানে তার অপারেশন হবে না বলে মুমূর্ষু প্রসূতিকে ওটি থেকে বের করে দেন। পরে ওই দিন নাজিরপুরে একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজার করেন।

২০১৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর এ ঘটনার রাতে তার মতো আর কোনো প্রসূতিকে যেন এ ধরনের হয়রানির শিকার হতে না হয় উল্লেখ করে সিনথিয়া ইসলাম তার ব্যবহূত ফেসবুক আইডি থেকে ডাক্তারের বিচার দাবি করে আবেগঘন একটি পোস্ট দেন। তখন এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ১৯ ডিসেম্বর সমকালে 'ওটি থেকে বের করে দেওয়া হলো অন্তঃসত্ত্বাকে' শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদটি সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এলে বিষয়টি নিয়ে কয়েক দফা তদন্ত হয়।

প্রায় দেড় বছর তদন্ত শেষে ১৪ জুলাই সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব জি এম সালেহ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে সরকারি কর্মচারী বিধিমালা মোতাবেক অসদাচরণের অভিযোগে অভিযুক্ত করে বিভাগীয় মামলা রুজু হয়। চিঠিতে উল্লেখিত বিধিমালার ৪ (৩)স(ঘ) মোতাবেক ওই চিকিৎসককে কেন সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না বা ওই বিধিমালার আওতায় কেন অন্য কোনো উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না সে সম্পর্কে আত্মপক্ষ সমর্থনের নির্দেশ প্রদান করা হয়। ডাক্তার হংসপতি শিকদার বর্তমানে রামপাল, বাগেরহাটে কর্মরত।