ঈদ আনন্দ নেই বেদে পল্লীতে

সিরাজদীখান

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৯      

ইমতিয়াজ বাবুল, সিরাজদীখান (মুন্সীগঞ্জ)

সিরাজদীখানের বেদে পরিবারগুলো এখন অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছে। গাঁয়ের পথে ঝুড়ি মাথায় কিংবা কাঁধে ব্যাগ ঝুলানো বেদে পরিবারের সদস্যদের আগের মতো চুড়ি-ফিতা বিক্রি করতে দেখা যায় না। সভ্যতার অগ্রযাত্রায় ব্যস্ত এ সময়ে মানুষ আর আগের মতো জড়ো হয়ে সাপ খেলা দেখার সময় পায় না।

উপজেলার বেদেপল্লীর লোকজন কোনো রকমে দুমুঠো খেয়ে-পরে বেঁচে আছে। তালতলা বাজারের পেছনে ইছামতি নদীতে ৬০টি এবং সিরাজদীখান বাজার-সংলগ্ন ইছামতি নদীতে ভাসমান ৪০টি পরিবারে অর্থাভাবে কখনও কোরবানি দেওয়া হয়ে ওঠে না। তাই ঈদের দিনটি অন্য সব দিনের মতোই মনে হয় তাদের কাছে। বেদে পরিবারের শিশু-কিশোরদের মধ্যে ঈদ নিয়ে হৈচৈ নেই। ঈদ সামনে রেখে বিগত সময়ের মতো এখন আর বেদে পরিবারের শিশু-কিশোরদের আতশবাজি করতেও দেখা যায় না।

উপজেলা সদর থেকে আট কিলোমিটার পূর্বে মালখানগর ইউনিয়নের তালতলা বাজারের পেছনে ইছামতি নদীতে ভাসমান ছোট ছোট ডিঙি নৌকায় বর্তমানে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছে ৬০টি বেদে পরিবার। অন্যদিকে সিরাজদীখান বাজার-সংলগ্ন ইছামতি নদীতে রয়েছে ৪০টি পরিবার। তবে তিন শতাধিক বেদে ভোটার হয়েছেন বলে জানান তালতালা বেদে সরদার মিনহাজ উদ্দিন।

সিরাজদীখান বাজারে ঝোলা কাঁধে বের হওয়া বেদে পরিবারের সদস্য মর্জিনা বেগম বলেন, 'আমাদের কাছ থেইক্কা মানুষ আগে চুড়ি-ফিতা কিনলেও এখন বাড়ির বউ-ঝিরা এসব হাটবাজারে গিয়া কিনেন। এ ছাড়া যেহানে- সেহানে ডাক্তার থাকায় আমাগো কাছ থেকে শিঙা ও তাবিজ কেউ নেয় না।' তালতলা বেদেপল্লীর সরদার মিনহাজ উদ্দিন বলেন, ভোটার হওয়া সত্ত্বেও সব ধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত আমরা।

ইউএনও আশফিকুন নাহার জানান, বেদেদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের সব ধরনের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা দানের চেষ্টা চলছে। সরকারি সব সুযোগ-সুবিধাই তাদের পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।