ত্রিশাল

ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সেতুতে যান চলাচল, দুর্ভোগ

মানসম্মত ব্রিজ নির্মাণ দাবি এলাকাবাসীর

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৯      

মতিউর রহমান সেলিম, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ)

আশির দশকে নির্মিত হয়েছিল বেইলি ব্রিজটি। তিন যুগ পেরিয়ে যাওয়া ওই ব্রিজটি এখন আর যানবাহনের ভার বইতে পারছে না। মরিচা পড়ে হামেশাই হারিয়েছে তার শক্তি। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারী যানবাহন চলাচল করায় তিন দিন আগে বেশ কয়েকটি গার্ডার বেঁকে গিয়ে দেবে গেছে চারটি পাটাতন। এতে প্রায়ই পাটাতন ভেঙে নদীতে পড়ে যানবাহন। দায়সারাভাবে বছর বছর মেরামত করা জোড়াতালির ওই ব্রিজটি আজ মরণফাঁদের রূপ ধারণ করেছে। মরণফাঁদে পরিণত হওয়া ব্রিজটি ময়মনসিংহের ত্রিশালের মঠবাড়ী ইউনিয়নের পোড়াবাড়ী বাজারে খিরু নদীর ওপর নির্মিত। ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন চলাচল করছে শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও যানবাহন। শুধু তাই নয়, ঈদে ঘরমুখী মানুষকেও পোহাতে হবে দুর্ভোগ।

উপজেলা সদর থেকে পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়িয়া উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ ওই সড়কের পোড়াবাড়ী বাজারের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে খিরু নদী। ওই নদীর ওপর ১৯৮২ সালে নির্মিত হয় ২৪২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট প্রস্থের একটি বেইলি ব্রিজ। নির্মাণের ১০-১২ বছর পেরোতেই ব্রিজের অনেক পাটাতনে মরিচা ধরেছে। মরিচায় নষ্ট হওয়া পাটাতন ভেঙে প্রায়ই যাত্রীসহ নদীতে পড়ে রিকশা, ভ্যান ও সিএনজির মতো যানবাহন। এর পর ভেঙে যাওয়া পাটাতনগুলো জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার কাজ চালানোর ফলে প্রায়ই ঘটে দুর্ঘটনা। খিরু নদী পারাপারের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ওই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীদের। ব্রিজটি দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধ থাকলেও প্রতিদিন গড়ে কয়েকশ' ভারী যানবাহন চলাচল করছে। কয়েক বছরে ব্রিজের বিভিন্ন স্থানের পাটাতন ভেঙে ঘটে যাওয়া ছোট-বড় দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অনেকে। অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আগে ওই ব্রিজটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় ছিল। পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের (এলজিইডি) আওতায় আসে। দু'বছর আগে আট লাখ টাকায় সংস্কার কাজ ছাড়াও বিভিন্ন মেয়াদে বেশ কয়েকবার ব্রিজটির মেরামত কাজ হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভারী যানবাহন চলাচল করায় তিন দিন আগে বেশ কয়েকটি গার্ডার বেঁকে দেবে গেছে চারটি পাটাতন। তবু জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ভারী যানবাহনের সামনে-পেছনে চলাচল করছেন সাধারণ মানুষ। পোড়াবাড়ী বাজারে রয়েছে একটি কলেজ, দুটি মাধ্যমিক, প্রাথমিক ও কিন্ডারগার্টেনসহ কয়েকটি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান। এ অঞ্চলের স্কুল-কলেজের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করে। ঝুঁকিপূর্ণ ওই ব্রিজটি ভেঙে নতুন একটি মানসম্মত ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় এলাকাবাসী।

মঠবাড়ী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী নিপা, তানিয়া আক্তার, ফারহানা, কাজল, ফিহানসহ কয়েক শিক্ষার্থী বলেন, ভাঙাচোরা জোড়াতালির এ ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে আমাদের খুব ভয় হয়। কিন্তু স্কুল-কলেজে যেতে বা নদী পারাপারে ব্রিজটিই একমাত্র মাধ্যম। তাই ঝুঁকি আর ভয় নিয়েই আমরা ব্রিজ পার হই।

উপজেলা প্রকৌশলী শাহেদ হোসেন জানান, ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ব্রিজের দু'পাশে সাইনবোর্ড লাগানো হয়েছিল। কিন্তু রাতের আঁধারে হয়তো গাড়ির চালক বা মালিকপক্ষ সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলেছে। পোড়াবাড়ী বাজারের ওই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজটি ভেঙে নতুন ব্রিজের জন্য সংশ্নিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।