বীরগঞ্জে নার্সের বাড়িতে সরকারি ওষুধ

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০১৯

দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে রোববার বিকেলে সরকারি হাসপাতালের নার্সের বাড়ি এবং তার স্বামী নুর আলম নুরের মালিকানাধীন ক্লিনিক থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ উদ্ধার করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযানের পর উদ্ধারকৃত ওষুধসহ স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। পরে রাতেই তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপস্থিত করলে বিচারক ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়ামিন হোসেন আটক ক্লিনিক মালিক নুর আলম নুরকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং নার্স ফাহিমা খাতুনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ফাহিমা খাতুন বীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র

স্টাফ নার্স।

রোববার ভোরে পৌর শহরের মাকড়াই গ্রামের রাজা মিয়ার স্ত্রী ফরিদা বেগমের প্রসবব্যথা উঠলে নুর ল্যাব অ্যান্ড সিটি (ক্লিনিক) নার্সিং হোমে নেওয়া হয়। এ সময় নার্স শাহানাজ পারভীন একাই প্রসবের চেষ্টা করলে শিশুর

মৃত্যু ঘটে।

এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বীরগঞ্জ থানার ওসি শাকিলা পারভিন এবং ওসি (তদন্ত) বিশ্বনাথ দাসগুপ্ত ক্লিনিকে যান। সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ এবং সরকারি হাসপাতালের ওষুধ ব্যবহারের বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরে বীরগঞ্জের ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়ামিন হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে ক্লিনিক থেকে সরকারি হাসপাতালের ওষুধ উদ্ধার করেন। তারই সূত্র ধরে ক্লিনিক মালিকের বাড়িতে অভিযান চালালে সেখানে সরকারি ওষুধ পাওয়া যায়। পরে ক্লিনিক মালিক নুর আলম ও তার স্ত্রী সরকারি হাসপাতালের নার্স ফাহিমা খাতুনকে আটক করে থানায় এনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দেওয়া হয়।

বীরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (ওসি) সাকিলা পারভিন জানান, বীরগঞ্জ পৌর শহরের নুর ল্যাব অ্যান্ড সিটি (ক্লিনিক) নার্সিং হোমে ডাক্তার বিহীন আয়া দিয়ে বাচ্চা প্রসবকালে শিশুর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনা তদন্তকালে ক্লিনিক মালিক ও সরকারি হাসপাতালের নার্সের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সরকারি ওষুধ পাওয়া যায়। এরপর হাসপাতালের নার্স ও ক্লিনিক মালিককে আটক করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ঘটনায় পৃথক মামলা হবে। এ ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুস জানান, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।