অর্ধশতাধিক সরকারি গাছ কাটল প্রভাবশালীরা

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০১৯      

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

ঈদের ছুটিতে সবাই যখন ব্যস্ত কোরবানির গরু নিয়ে তখন অর্ধশতাধিক সরকারি গাছ কেটে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। রোবরার রাতে সীতাকুণ্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের হাদাগাজী সড়কের রাস্তার উভয় পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কাটা হলেও উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি জানে না বলে জানিয়েছে।

বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর অজুহাতে এই গাছগুলো স্থানীয় সরকারদলীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা কেটেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয় চেয়ারম্যান গাছগুলো ইউনিয়ন পরিষদের দাবি করে কর্তনের পর টেন্ডার দেওয়া হবে বলে নোটিশ জারি করেছেন। সরকারি নিয়ম মোতাবেক উপজেলা পরিষদ থেকে অনুমোদন নিয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে গাছগুলো কাটতে হয়। অথচ কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে রাতের আঁধারে কাটা হয়েছে সরকারি এই গাছগুলো। ইউএনও মিল্টন রায় বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওই সড়কের পাশ দিয়ে ১১ হাজার ভোল্টের একটি বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন বসানো হচ্ছে। ফলে সড়কটির পাশে থাকা দুই শতাধিক ছোট-বড় গাছ কাটার পরিকল্পনা ছিল স্থানীয় প্রভাবশালী মঞ্জুরুল আলম ও তার স্বজনদের। সরেজমিন দেখা যায়, সড়কটির উভয় পাশে রোববার রাতে অর্ধশত গাছ কাটা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই সড়কের বেশিরভাগ গাছ ফুটন্ত প্রতিভা নামে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে ১২ থেকে ১৩ বছর আগে লাগানো হয়েছে। সংগঠনটির কমিটি বর্তমানে বিলুপ্ত। বাকি গাছগুলো ব্যক্তি মালিকানাধীন। রোববারে কাটা সবগুলো গাছ ইউনিয়ন পরিষদের মালিকানাধীন।

সংগঠনটির সর্বশেষ সাধারণ সম্পাদক শওকত আকবর চৌধুরী বলেন, ২০০৬-২০০৭ সালে তারা হাদাগাজী ও ঘোড়ামরা সড়কে ২৫০টিরও বেশি গাছ লাগিয়েছেন। গাছগুলো উপজেলা প্রশাসন থেকে দেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন সময় তাদের লাগানো গাছ কাটা পড়েছিল। তিনি প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেক আক্রমণের শিকার হয়েছেন। তিনি গাছ কাটার বিরুদ্ধে। বর্তমানে বিদ্যুৎ লাইনের নামে গাছ না কেটে বিকল্প পথে বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া যেতে পারে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনির আহমদ গাছগুলো ইউনিয়ন পরিষদের দাবি করে বলেন, স্থানীয় মঞ্জুরুল আলম নামে এক ব্যক্তিকে কাটার জন্য বলা হয়েছে। ফৌজদারহাট বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ছানাউল্লাহ বলেন, বৈদ্যুতিক খুঁটি বসানোর জন্য গাছ কাটার প্রয়োজন নেই। যারা গাছ কেটেছে তারা নিজেদের স্বার্থের জন্য ওই কাজ করেছে। এতে বিদ্যুৎ বিভাগের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।