বিনোদনকেন্দ্রে দর্শনার্থীর উপচেপড়া ভিড়

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০১৯      

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) ও মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা বিনোদন পার্কগুলোতে ঈদের দিন থেকে দর্শনার্থীর উপচেপড়া ভিড় হচ্ছে। ঈদের ছুটিতে দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থী ওই পার্কগুলোতে এসে ঈদের আনন্দ উপভোগ করছেন। শিশু-নারীসহ সব ধরনের লোকের সমাগম ঘটছে ওই বিনোদন পার্কগুলোতে। যেসব পার্কে শিশুদের খেলাধুলার ব্যবস্থা রয়েছে সেগুলোতে ভিড় একটু বেশি। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটু বাড়তি আনন্দ পেতে অনেকেই ছুটে যাচ্ছেন শহর থেকে দূরে মনোরম পরিবেশে গড়ে ওঠা বিনোদন পার্কগুলোতে। তবে ঈদের দিন থেকেই ঈদগাহ মাঠ এলাকায় মেলাও জমে ওঠে। ওইসব মেলায় শত শত দর্শনার্থীকে দিনভর ব্যবহূত নানা পণ্য কিনতে দেখা যায়। সফিপুর বাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ, বলিয়াদি, সূত্রাপুর, ফুলবাড়িয়া, মৌচাক এলাকায় বৃহত্তম ঈদগাহ মাঠের পাশে দুই দিনব্যাপী মেলা চলছিল।

উপজেলার কালিয়াকৈর ও আশুলিয়ার সীমান্তবর্তী বাড়ইপাড়া এলাকার সবচেয়ে বড় বিনোদন কেন্দ্র নন্দন পার্কে দর্শনার্থীর উপচেপড়া ভিড় সব সময় লেগে থাকে। অন্যদিকে উপজেলার কালামপুর এলাকায় গভীর বনের ভেতর সোহাগ পল্লী, চা বাগান এলাকার তুরাগ রিসোর্ট, তালতলী এলাকার আনন্দপার্ক, রাঙামাটি এলাকার রাঙামাটি রিসোর্ট, চন্দ্রা এলাকার শিল্পকুঞ্জ, রামচন্দ্রপুর এলাকার দীপালি, চা বাগান এলাকার গুলবাহার, বারেক মার্কেট এলাকার গুলবাগিচা আনন্দ বিনোদন পার্ক, বান্দাবাড়ী এলাকার ঢাকা রিসোর্ট, মুক্তা পার্ক, তুরাগ ওয়াটার ফ্রন্ট, মাঝুখান এলাকার নীলকমল, বড়ইবাড়ী এলাকার জলকুটির ছাড়াও সরকারি চন্দ্রা বিটের সরকারি রেস্ট হাউসেও দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন ঈদের আনন্দ উপভোগ করার জন্য। এ ছাড়া সফিপুর আনসার ও ভিডিপি একাডেমি, মৌচাক স্কাউটস ক্যাম্প, মাকিশ বাথান এলাকায় বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল হাইটেক পার্ক, আন্দারমানিক বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটি দেখার জন্য দলে দলে লোক আসছে। অনেক বিনোদন পার্কে ঢাকা থেকে আগে থেকেই টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থা রয়েছে।

দর্শনার্থী নুসরাত জাহান, মমতাজ আক্তার, জাহাঙ্গীর হোসাইন জানান, সারা বছর কর্মব্যস্ততার কারণে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘোরাফেরা করা সম্ভব হয় না। তাই দুই ঈদে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটু স্বস্তি পাওয়ার জন্য এই বিনোদন পার্কে এসে ঘোরাঘুরি করছি।

এদিকে, পর্যটন সম্ভাবনার আকর্ষণীয় জনপদ হয়ে উঠছে মদন-খালিয়াজুরী সড়কের বালই ব্রিজ। ঈদুল আজহার ছুটিতে পর্যটকদের পদচারণায় হাওরপাড়ের এ স্থানের চিত্র পাল্টে যাচ্ছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার ভ্রমণ পিপাসু লোকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে হাওরাঞ্চলের এ জনপদটি।

বিশেষ করে সরকার হাওরবাসীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে হেমন্তকালীন যাতায়াতের সুবিধার্থে ১০৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ডুবন্ত সড়ক ও ব্রিজ নির্মাণ করায় এর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বেড়ে গেছে।

পর্যটকসহ সবার দাবি, সরকারিভাবে এই অঞ্চলে পর্যটকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য সুব্যবস্থা গ্রহণ করলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় পাবে। এ নিয়ে এলাকাবাসী গঠন করেছে উচিতপুর পর্যটন সুরক্ষা পরিষদ। ওসি মো. রমিজুল হক জানান, ঈদ উপলক্ষে এ অঞ্চলে দর্শানার্থীর উপচেপড়া ভিড়। পুলিশ সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে।

মদন ইউএনও ওয়ালীউল হাসান জানান, উচিতপুর ট্রলার ঘাটে হাওর বিলাস নামে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ শুরু করা হয়েছে। এ নিয়ে জেলা পর্যায়ে হাওর বিলাস নামে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।