সড়কজুড়ে খানাখন্দ, দুর্ভোগ

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০১৯

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

সংস্কারের অভাবে কলমাকান্দা-ঠাকুরাকোনা সড়ক চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ২২ কিলোমিটার সড়কে অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়ে সড়কটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সড়ক সংস্কারে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই। ওই সড়কে মান্ধাতা আমলে নির্মিত ৯টি

বেইলি সেতু দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্য দিয়ে চলছে।

কলমাকান্দা-ঠাকুরাকোনা সড়ক দীর্ঘদিন ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। বন্যায় সড়কের বিভিন্ন স্থান ডুবে দেখা দিয়েছে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। সড়কের বিভিন্ন স্থানে দুই পাশে দেখা দিয়েছে ভাঙন। এতে করে পাশাপাশি দুটি যানবাহন দু'দিক থেকে অতিক্রম করার সময় খাদে পড়ে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এ সড়কটিতে দীর্ঘদিন ধরে ৯টি বেইলি ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সড়কটি প্রশস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজ ভেঙে পাকাকরণের দাবি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের। বেইলি ব্রিজে যানবাহন উঠলে কাঁপতে থাকে ও যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হয়। অতিরিক্ত মালবাহী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে। জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী সুনামগঞ্জ, বারহাট্টা, দুর্গাপুরের বিভিন্ন উপজেলার মানুষের চলাচলের একমাত্র সড়ক এটি। সড়কটি খারাপ হওয়ায় মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। ঝুঁকি নিয়ে এলাকাবাসীকে চলাচল করতে হচ্ছে।

নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের সড়কটি স্থায়ী মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেই। কলমাকান্দা-ঠাকুরাকোনা ২২ কিলোমিটার সড়কটি সওজ বিভাগ প্রায় চার বছর আগে সংস্কার করা হয়েছিল। আবারও সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে বেহালদশার সৃষ্টি হয়েছে।

নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরাকোনা থেকে কলমাকান্দা সদর পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার সড়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি বেইলি ব্রিজ সংস্কারে ৩১০ কোটি টাকার বরাদ্দ হয়েছে।

কলমাকান্দা-ঠাকুরাকোনা সড়কের উড়াদীঘি বাজার, নিশ্চিন্তপুর, পাবই, হীরাকান্দা, তেগুরিয়া, বাহাদুরপুর, গুতুরা, কাট্টুয়চোরা, নিশ্চিন্তপুর, বাউসী, পাপবইসহ বিভিন্ন এলাকার ইট-সুরকি উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। ওই সব গর্তে পানি জমে রয়েছে। সড়কে আটকে যাচ্ছে ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন।

নেত্রকোনা-১ আসনের এমপি মানু মজুমদার বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে সড়কটির বেহালদশা বিরাজ করছে। সড়কটি সংস্কার করতে কতদিন লাগবে বলতে পারছি না। কয়েকবার দরপত্র আহ্বান করে বাতিল করা হয়েছে। সংশ্নিষ্ট বিভাগ নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছে। ভাঙাচোরা সড়ক দিয়ে এলাকাবাসীর চলাচল করতে খুব

কষ্ট হয়। সড়কটি দ্রুত সময়ের মধ্যে সংস্কার

করা প্রয়োজন।

নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, ওই সড়কে যানবাহন চলাচলের চাপ অনেক বেশি। বন্যার পানিতে সড়কের বিভিন্ন স্থান ডুবে যাওয়ায় সড়কটি ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঈদ উপলক্ষে মানুষের চলাচলের জন্য ইট-সুরকি ফেলে গর্ত ভরাট করে চলাচল উপযোগী করা হয়েছে।