ভাগাড়ে পরিণত খাল ও জমি

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০১৯      

আনোয়ার হোসেন আনা, ওসমানীনগর (সিলেট)

ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপের কারণে সারাদেশের মতো সিলেটের ওসমানীনগরে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত থাকলেও উপজেলার হাট-বাজারগুলোর ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনার দিকে কারও নজর নেই। গোয়ালাবাজার, তাজপুর ও দয়ামীর বাজারে পানি নিস্কাশনের খাল এবং কৃষি জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে ময়লার ভাগাড়। এতে আবর্জনা ও পলিথিনে ভরাট হয়ে গেছে খাল ও কৃষি জমি। অন্যদিকে হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ। এ অবস্থায় ডেঙ্গু আতঙ্কে রয়েছেন এলাকাবাসী। সংশ্নিষ্টদের দাবি, বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য সরকারি নির্দিষ্ট কোনো জায়গা না থাকায় এমন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, উপজেলার ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র গোয়ালাবাজার থেকে প্রতি বছর প্রায় দেড় কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করা হয়। কিন্তু বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট জায়গার অভাবে বাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা কৃষি জমি এবং খালে গড়ে তুলেছে ময়লার ভাগাড়। সড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়ের দুর্গন্ধে নাক চেপে ধরে হাঁটতে হয় পথচারীদের। তাজপুর এবং দয়ামীর বাজারে খালের ওপর ময়লার ভাগাড় গড়ে তোলায় ভরাট হয়ে গেছে পানি নিস্কাশনের খাল। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান অব্যাহত রাখলেও বাজারের এই দূরবস্থার খবর রাখছে না কেউ।

সরেজিমন ঘুরে দেখা যায়, গোয়ালাবাজারের পূর্ববাজারে রাস্তার পাশের কৃষি জমির ওপর রয়েছে ময়লা-আবর্জনার বিশাল ভাগাড়। দীর্ঘদিন থেকে বাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এই কৃষি জমিতে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে জমির অনেকাংশ ভরাট হয়ে গেছে। লোকজন এর পাশ দিয়ে হাঁটতে গিয়ে দুর্গন্ধের কারণে নাক চেপে ধরছে। বাজারের সামান্য দূরে গয়নাঘাট খালেও গড়ে তোলা হয়েছে ভাগাড়। অথচ কয়েক বছর আগে সরকার এই খালটি খনন করেছে। এ ছাড়া মহাসড়কের পাশে অনেক জায়গায় ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়।

তাজপুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, খালের ওপর ময়লার ভাগাড় গড়ে তোলা হয়েছে, যার কারণে খালে পরিণত হওয়া একসময়ের বিশাল বুড়ি নদীর শেষ চিহ্নটুকু ভরাট হয়ে গেছে। এখন খালের ওপর দিয়ে লোকজন হাঁটতে পারছে। নদীর অন্যান্য অংশের মতো এই শেষ চিহ্নটুকু ভরাট হয়ে যাওয়ায় আগামীতে দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দয়ামীর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দয়ামীর-দয়ালং খালে ময়লার ভাগাড় গড়ে তোলায় খালের বাজার সংলগ্ন অংশ প্রায় ভরাট হয়ে গেছে। খালের পাশ দিয়ে চলে যাওয়া গ্রাম্য সড়কে যাতায়াতকারী এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামের লোকজন দুর্গন্ধের কারণে দুর্ভোগে রয়েছেন।

গোয়ালাবাজার বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মানিক বলেন, বাজারের ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য সরকারি কোনো নির্দিষ্ট জায়গা নেই। কোটি টাকার বেশি রাজস্ব প্রদানকারী এই বাজারে ময়লা ফেলার জন্য কোনো গাড়িও নেই। বাজারের ময়লা ব্যবস্থাপনার জন্য গাড়ি এবং আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছি উপজলা প্রশাসনের কাছে।

দয়ামীর বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এসটিএম ফখর বলেন, বাজারের ময়লা ফেলার জন্য সরকারি নির্দিষ্ট কোনো জায়গা নেই। দয়ালং খালটি খননের জন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান বলেন, বাজারের ময়লা ফেলার জন্য সরকারি নির্দিষ্ট জায়গা আছে। বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির বিষয়টি দেখভাল করার কথা।