হাতিয়ায় অপহৃত ২ জেলের সন্ধান মেলেনি ৭ দিনেও

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৯

নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার মেঘনা নদীতে অপহৃত দুই জেলের সন্ধান সাত দিনেও মেলেনি। সোমবার রাতে হাতিয়ার কেরিংচর সংলগ্ন চর নুরুল ইসলাম এলাকা থেকে জলদস্যুরা ১৫ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে ১৩ জেলে মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পেলেও গত সাত দিনেও দুই জেলের সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজ জেলেরা হচ্ছেন সুবর্ণচর উপজেলার চর হাসান গ্রামের ফারুক ও ইসরাফিল। এ ঘটনায় নিখোঁজ জেলেদের পরিবারে বিরাজ করছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

ইলিশের ভরা মৌসুমে মাছ শিকারের জন্য জেলেরা বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরতে হাতিয়ার মেঘনা নদী ও বঙ্গোপসাগর এলাকায় যান। হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাট এলাকার মৎস্যজীবী জুয়েল মাঝি জানান, তার দুটি মাছ ধরার ইঞ্জিনচালিত নৌকা রয়েছে। এ দুই নৌকায় তার ১৬ জন জেলে নিয়মিত মাছ ধরতে নদীতে যান। ১৮ আগস্ট রাতে তার দুটি নৌকা সোহাগ ও কামাল মাঝির নেতৃত্বে ১৬ জন জেলে হাতিয়ার কেরিংচর ও সন্দ্বীপ সংলগ্ন চর নুর ইসলাম এলাকায় মাছ ধরতে যায়। সোমবার রাতে এক সময়ের কুখ্যাত জলদস্যু (প্রয়াত) বশার মাঝির চাচাতো ভাই মোজাম্মেল কমান্ডার ও বশার মাঝির সেকেন্ড ইন কমান্ড বেলাল কমান্ডারের নেতৃত্বে ২৫-৩০ জনের একদল জলদস্যু আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশি অস্ত্র নিয়ে জুয়েল মাঝির দুই নৌকায় হানা দিয়ে তাদের জিম্মি করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ১৫ জেলেকে মারধর ও অপহরণ করে জলদস্যুদের আস্তানায় নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে ১৩ জেলে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পান। মুক্তিপণ দিতে না পারায় ইসরাফিল ও ফারুককে জলদস্যুরা আটকে রাখে। তাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা কেউ বলতে পারছেন না।

হাতিয়া মৎস্যজীবী শ্রমিক নেতা ইসমাইল হোসেন বলেন, মাছ ধরা অবস্থায় জলদস্যুরা অস্ত্রের মুখে ১৫ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। তাদের মধ্যে ১৩ জন ছাড়া পেলেও অন্য দু'জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ইসমাইল হোসেন ও জেলে জুয়েল মাঝি অভিযোগ করে বলেন, হাতিয়ার নৌপুলিশ ফাঁড়ির আইসি আবদুর রহমান ঢালির কাছে অপহরণ ও চাঁদা দাবির বিষয়ে অভিযোগ করতে গেলে তিনি বিষয়টিকে আমলে নেননি। এসআই আবদুর রহমান ঢালি বলেন, যেহেতু অপহরণ করতে কেউ দেখেনি, সেহেতু তিনি কী করে বুঝবেন অপহরণ হয়েছে কি-না।

কোস্টগার্ড হাতিয়া স্টেশনের সাব-লেফটেন্যান্ট জহিরুল ইসলাম বলেন, অপহৃত দের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তা কোস্টগার্ড নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে। অপহৃত জেলেদের উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে।

হাতিয়া থানার ওসি আবুল খায়ের অপহরণের বিষয়টি নৌপুলিশ ফাঁড়ির মাধ্যমে জেনেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।