সন্ধ্যা নামলেই অপকর্ম শুরু করে দুর্বৃত্তরা

রোহিঙ্গা ক্যাম্প

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৯

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

উখিয়া-টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের মধ্যে খুন-খারাবি, ইয়াবা পাচার, মানব পাচার ও লোকালয়ে মিশে যাওয়া নিয়ে রীতিমতো বিপাকে প্রশাসন। সন্ধ্যার পরপরই উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নেমে আসে নীরব, নিস্তব্ধতা। ক্যাম্পে অবস্থান নিতে পারেন না এনজিও কর্মীরা। সন্ধ্যার পরে এমন ভুতুড়ে পরিবেশে ক্যাম্পজুড়ে শুরু হয় দুর্বৃত্তদের আনাগোনা। সাধারণ রোহিঙ্গারা বলছে, রাতের অন্ধকারে প্রায় সময় কিছু দুস্কৃতকারী রোহিঙ্গা ক্যাম্পজুড়ে তাণ্ডব চালায়। আধিপত্য নিয়ে মারামারি, যৌন নির্যাতন, প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, এমনকি হত্যার মতো ঘটনাও ঘটানো হয় এখানে।

গত দুই বছরে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে হত্যাসহ ২৩০টির মতো অপরাধমূলক কর্মকা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫টি খুন হয়েছে। এসব ঘটনায় ২০০ রোহিঙ্গাকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ২৫টি অস্ত্র মামলায় ৫৫ জন, ১০০ মাদক মামলায় ১৫০, ৬৫ পাসপোর্ট মামলায় ৫০, নারী ও শিশু নির্যাতন দমনের দুই মামলায় ২, অপহরণের পাঁচ ঘটনায় ১০, চোরাচালানের সাত মামলায় ১৫, চুরির কয়েকটি মামলায় ১০ এবং ডাকাতির আট মামলায় ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া গত দেড় বছরে রোহিঙ্গা শিবির থেকে পালিয়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাড়িসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৫৬ হাজার রোহিঙ্গাকে আটক করে ক্যাম্পে ফেরত আনা হয়।

টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের ডেভেলপমেন্ট কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আলমের মতে, অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা রোহিঙ্গাদের অপরাধমূলক কাজে জড়াচ্ছে।

এনজিও কর্মকর্তারা বলছেন, ক্যাম্পে অপরাধীদের দৌরাত্ম্যে এনজিওগুলো কাজ করতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। পুলিশ বলছে, রোহিঙ্গাদের কয়েকটি গ্রুপ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার পাশাপাশি ইয়াবা ও মানব পাচারেও জড়াচ্ছে। কক্সবাজার র‌্যাব-১৫-এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ বলেন, ক্যাম্পে অভিযানে গেলে ফোর্সের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে।

সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক, র‌্যাবের ডিজি ও বিজিবিপ্রধান। এ সময় পুলিশের মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, 'রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সরেজমিন পরিদর্শনে এসেছেন তিন বাহিনীর প্রধান। ক্যাম্পের অপরাধ কমাতে আরও জনবল বৃদ্ধি করতে চাই আমরা।'