চায়ের গ্রাম বিজয়পুর

মুক্তাগাছা

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০১৯

শফিক সরকার, মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ)

পরীক্ষামূলক চা চাষ শুরু হয়েছে মুক্তাগাছায়। বনাঞ্চলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৩০ শতাংশ জমিতে শুরু করা হয়েছে চা আবাদ। ১০ মাস বয়সের চারায় এখন পাতা ছড়িয়ে পড়েছে। এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই পাতা তোলা যাবে বাগান থেকে। প্রথম চালানের পর বৃহৎ এলাকাজুড়ে চা বাগান করার ইচ্ছা রয়েছে বাগান মালিকের। এতে এ অঞ্চলের মানুষ বাণিজ্যিকভাবে চা রফতানির উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছেন।

ময়মনসিংহের রসুলপুর ও টাঙ্গাইলের মধুপুরের বিস্তৃত এলাকাজুড়ে রয়েছে বনাঞ্চল। এ অঞ্চলের মুক্তাগাছা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি গ্রামের নাম বিজয়পুর। এটি মধুপুর বনাঞ্চলের পাশে রসুলপুর বনাঞ্চল এলাকায় পড়েছে। উপজেলার চারিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আবুল হাশিম বছরখানেক আগে বেড়াতে গিয়েছিলেন পঞ্চপড়ে। পঞ্চগড়ের বিভিন্ন চা বাগান ঘুরে দেখেন তিনি। সেখান থেকেই তিনি চা বাগান করার স্বপ্ন বুনতে থাকেন। আবুল হাশিম তার নিজ উপজেলা মুক্তাগাছায় এসে এর বাস্তবায়নে হাত দেন।

রসুলপুর বনাঞ্চল ঘেঁষা বিজয়পুর এলাকায় পরীক্ষামূলক চা বাগান করতে ৩০ শতাংশ জমি নির্ধারণ করেন। ওই জমির মাটি পরীক্ষা করে জমিটি চা বাগানের জন্য উপযোগী হওয়ায় আবুল হাশিম তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে ২৫ ও ২৬ জাতের চায়ের চারা রোপণ করেন। তার বাগানে রয়েছে এক হাজার চারা। পঞ্চগড় থেকে তিনি চা গাছের চারা কিনে নিয়ে আসেন। রোপণের ১০ মাসের মধ্যে চা গাছ তিন ফুট উঁচু হয়েছে। গাছের পাতা এখন ছড়িয়ে পড়েছে বাগানজুড়ে। পরীক্ষামূলক চা পাতায় সবকিছু ঠিক থাকলে এরপরই বিস্তৃত এলাকাজুড়ে শুরু করা হবে চা বাগান। এমনই আশা করেছেন চা বাগানের মালিক আবুল হাশিম। তার চা বাগান  দেখতে বিভিন্ন এলাকার মানুষ ছুটে যাচ্ছেন বিজয়পুরের চা বাগানে। বাগান দেখে মুগ্ধ হয়ে তারাও চা বাগান করার স্বপ্ন দেখছেন। সে সঙ্গে এলাকাজুড়ে চা বাগান ছড়িয়ে পড়লে চা রফতানিতে নতুন দুয়ার খোলার সম্ভাবনা রয়েছে।

চা বাগানের মালিক আবুল হাশিম বলেন, মাটি পরীক্ষা করে দেখা গেছে, মধুপুর ও রসুলপুর বনাঞ্চলের মাটি চা বাগানের জন্য উপযোগী। এ মাটিতেই চা উৎপাদন করা সম্ভব। তার ইচ্ছা রয়েছে বিস্তৃত এলাকাজুড়ে চা বাগান করার।

ইউএনও সুবর্ণা সরকার বলেন, বিস্তৃত এলাকাজুড়ে চা আবাদ করা গেলে এ অঞ্চলের মানুষ উপকার ভোগ করতে পারবে। চা আবাদে শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠার  সম্ভাবনা রয়েছে।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এমপি বলেন, নির্বাচনী প্রচারের সময় পাহাড়ের বিভিন্ন অঞ্চল তার চোখে পড়ে। মাটি গবেষকদের এনে মাটিও পরীক্ষা করিয়েছেন তিনি। মাটি পরীক্ষায় চা আবাদের উপযোগী হওয়ায় সরকারিভাবে ওইসব অঞ্চলে চা আবাদের পরিকল্পনা রয়েছে তার।