পরিত্যক্ত সেতু দিয়ে চলাচল দুর্ঘটনার আশঙ্কা

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯      

ইকবাল হোসেন মনজু, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)

ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভা এলাকায় হালদা নদীর ওপর নির্মিত শতবর্ষী হালদা সেতুটি গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ৪ ফুট দেবে যায়। বিকল্প পথে ৩ কিলোমিটার ঘুরতে হয় বলে ঝুঁকি নিয়ে ওই সেতুর ওপর দিয়েই চলাচল করছে মানুষ। যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। তবু সেতুটি সংস্কার বা নতুন সেতু তৈরির কোনো উদ্যোগ নেই।

২০১৮ সালের জুনে বন্যার সময় সেতুটি মাঝ বরাবর ৩ থেকে ৪ ফুট দেবে গেলে সেতুর ওপর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে বৃহত্তর ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীর লক্ষাধিক মানুষ যাতায়াতে বেকায়দায় পড়ে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের অধীন (এলজিইডি) ৩৩০ ফুট দীর্ঘ এ সেতুটি পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, বৃহত্তর ফটিকছড়ি এবং হাটহাজারী উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ ও ট্রেন যাত্রীদের যাতায়াতের একমাত্র উপায় ছিল। সেতুটি দেবে যাওয়ায় স্থানীয়দের প্রায় ৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে নাজিরহাট বাজার ও পৌর এলাকায় যেতে হচ্ছে।

জানা গেছে, ব্রিটিশ সরকার ১৯১৯ সালে তৎকালীন ডিস্ট্রিক্ট বোর্ড ফটিকছড়ি-হাটহাজারী উপজেলার সীমান্ত এলাকা নাজিরহাটে এ সেতু নির্মাণ করে। স্বাধীনতা যুদ্ধচলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ডিনামাইট দিয়ে সেতুটির একাংশ ধ্বংস করে দেয়। পরে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭২ সালে সেতুটি মেরামত করে আবার যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করে।

১৯৯৪ সালে সেতুটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে দায়িত্ব শেষ করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগ এ সেতুটি নাজিরহাট পৌরসভাকে বুঝিয়ে দিয়েছে বলে জানায়। তবে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলছে, এ বিষয়ে সওজ এখন পর্যন্ত কোনো অফিসিয়াল চিঠি দেয়নি তাদের।

চট্টগ্রাম সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ সমকালকে বলেন, সেতুটি নাজিরহাট পৌরসভাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই সেতুটির ব্যাপারে সওজের কোনো দায়দায়িত্ব নেই এখন।

নাজিরহাট পৌরসভার প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ আলী জানান, পুরনো সেতুটি সংস্কার করলেও কোনো লাভ হবে না। তাই নতুন সেতু নির্মাণে ফটিকছড়ি এলজিইডি থেকে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সেতুর নকশা নিয়ে আপত্তি থাকায় নতুন নকশা করতে বলা হয়েছে। সেজন্য দেরি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামান জানান, 'সেতু নির্মাণে এখনও কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হয়নি। তবুও আমরা একটি প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি। অনুমোদন ও বরাদ্দ পেলে এখানে নতুন সেতু নির্মাণ করা হবে।'