মহাসড়কে অবৈধ বাসস্ট্যান্ড যানজটে ভোগান্তি

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯      

শফিক সরকার, মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ)

ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মুক্তাগাছা শহরের আর কে স্কুলের গেট থেকে নাপিতখোলা মোড় পর্যন্ত দূরত্ব ৩০০ মিটার। এ জায়গাটুকুই হলো শহরের প্রাণকেন্দ্র। আর এ সড়কের ওপরই অবৈধভাবে গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন যানবাহনের পাঁচটি স্ট্যান্ড। সড়কের ওপরে বাসস্ট্যান্ড গড়ে ওঠায় এ জায়গাটুকু যেতে সময় লাগে ১৫ থেকে ২০ মিনিট। এতে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজট হয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রীসহ এলাকাবাসী। অথচ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক। এ সড়ক দিয়ে উত্তরাঞ্চলের ২০ জেলার অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে থাকে।

মুক্তাগাছা শহরের ওপর দিয়ে চলে গেছে ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়ক। এ সড়কের এক পাশে রয়েছে সরকারি আর কে স্কুল, পৌরসভা, সোনালী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, জেলা পরিষদের ডাকবাংলো এবং অন্য পাশে রয়েছে থানা, পোস্ট অফিস, সাউথইস্ট ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংকসহ গুরুত্বপূর্ণ অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকায় মহাসড়কের ওপরই গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন যানবাহনের অবৈধ স্ট্যান্ড। সড়কের এক পাশে ইসলাম পরিবহন এবং অপর পাশে রয়েছে বিভিন্ন সার্ভিসের বাসস্ট্যান্ড। পৌরসভার গেটে রয়েছে পালকি নামে একটি যানবাহন ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড। এ ছাড়া থানার সামনে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে অটোরিকশা। থানার সামনে থেকে একেবারে নাপিতখোলা মোড় পর্যন্ত রাখা হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন। এতে সার্বক্ষণিক যানজট লেগে থাকে এ সড়কে। অন্যদিকে, মুক্তাগাছা পৌরসভার উদ্যোগে ফায়ার সার্ভিসের সামনে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ১০ বছর আগে। এ টার্মিনাল থেকে একদিনের জন্যও কোনো যানবাহন চলাচল করেনি। এ টার্মিনাল এখন বিভিন্ন ওয়ার্কশপ দোকান মালিকদের দখলে রয়েছে।

দীর্ঘ যানজট ও সড়কের ওপর থেকে বাসস্ট্যান্ড সরাতে প্রতিবারই উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা সভায় কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করলেও কোনো কাজ হয়নি। উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার সড়কের ওপর থেকে অবৈধ বাসস্ট্যান্ড সরাতে উদ্যোগ নিয়েও মোটর শ্রমিকদের বাধায় বারবার ব্যর্থ হয়েছে।

ট্রাফিকের মুক্তাগাছা জোনের উপপরিদর্শক আবদুল আজিজ বলেন, সড়কের দু'পাশে বড় বড় খানাখন্দ আর সড়কের ওপর বাসস্ট্যান্ড গড়ে তোলায় যানজট নিরসনে তাদের হিমশিম

খেতে হচ্ছে।

ইউএনও সুবর্ণা সরকার সমকালকে বলেন, সড়কের ওপর থেকে ইসলাম পরিবহনসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড সরানোর উদ্যোগ একাধিকবার নিলেও মোটর শ্রমিকদের কারণে ব্যর্থ হতে হয়েছে। এর পরও এ মাসেই নতুন করে আবারও উদ্যোগ নেওয়া হবে।