নাসিরনগরে পুলিশ হেফাজতে বাবুল মিয়া (৬০) নামে এক গ্রামবাসীর মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, গ্রেফতারি পরোয়ানা ছাড়াই তাকে পুলিশ গ্রেফতার এবং ছেড়ে দেওয়ার জন্য ৫০ হজার টাকা ঘুষ দাবি করে।

রোববার সকালে গ্রেফতার করা হয় বাবুলকে। সন্ধ্যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। বাবুল মিয়া নাসিরনগর উপজেলার পূর্বভাগ ইউনিয়নের কৈয়ারপুর গ্রামের বাসিন্দা।

বাবুলের ভাতিজা ছত্তর বলেন, তার চাচাকে আটক করার সময় পুলিশ কোনো গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখাতে পারেনি। তাকে ছাড়ার জন্য পুলিশ ৫০ হাজার টাকা ঘুষ চেয়েছিল। তবে পুলিশের ভাষ্য, তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। আটকের পর সন্ধ্যায় তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করেন। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শাহরিয়ার সোহেব জানান, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি মারা যেতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

জানা গেছে, বাবুলকে গ্রেফতারের সময় স্থানীয়রা জানতে চান তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে কি-না। এ সময় নাসিরনগর থানার এসআই শামীম আহমেদ বলেন, 'কোনো অভিযোগ নেই। নতুন মামলা দিমু। ৫০ হাজার টাকা লইয়া আয়, ছাইড়া দিমু।' পরে স্থানীয় কয়েকজন ২০ হাজার টাকা নিয়ে গেলেও এসআই শামীম তাকে ছাড়েননি। এরপর বাবুল মারা যান।

এসআই শামীম বলেন, বাবুলের বিরুদ্ধে একটি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে। ঘুষ দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানার আসামিকে ছাড়ার কোনো সুযোগ নেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় বাবুলকে আটক করা হয়। তার মৃত্যু এবং পরিবারের কাছে ঘুষ দাবির বিষয়টি তদন্ত করা হবে।

মন্তব্য করুন