যৌতুক দাবিতে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯      

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের ফুলবাড়িয়া উত্তরপাড়া এলাকায় যৌতুকের জন্য যুবদল নেতার বিরুদ্ধে স্ত্রী উম্মে মুসলিমা মুক্তাকে অমানসিক নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উম্মে মুসলিমা মুক্তা উপজেলার ফুলবাড়িয়া উত্তরপাড়া এলাকার মৃত মোশাররফ মিয়ার মেয়ে। মুক্তার স্বামী শেখ সাব্বির আহম্মেদ কছিম উপজেলার মোথাপাড়া এলাকার শেখ আব্দুল হাকিমের ছেলে। ওই ঘটনায় শনিবার রাতে যুবদল নেতাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা করা হয়।

তিন বছর আগে গাজীপুর জেলা বিএনপির যুবদলের সহসভাপতি শেখ সাব্বির আহম্মেদ কছিমের সঙ্গে পারিবারিকভাবে মুক্তার বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই মুক্তার ওপর যৌতুকের দাবিতে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন স্বামী সাব্বির।

টাকা দিতে অস্বীকার করায় তার শরীরে সিগারেটের স্যাঁকাও দেওয়া হয়। এ কারণে মুক্তার মা বাধ্য হয়ে জমিসহ বিভিন্ন মূল্যবান সম্পদ বিক্রি করে পর্যায়ক্রমে মেয়ের জামাতাকে ২০ লাখ টাকা দেন। মুক্তাকে নির্যাতনের বিষয়ে এলাকায় একাধিক গ্রাম্য সালিশ বসলেও কোনো সমাধান হয়নি।

মুক্তার কাছে আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন স্বামী যুবদল নেতা সাব্বির। ওই টাকা দিতে অস্বীকার করলে ক্ষিপ্ত হন ওই যুবদল নেতা ও তার পরিবারের লোকজন। এর জেরে ২০ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে স্ত্রী মুক্তাকে হত্যা উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। এ সময় তার স্বামী সাব্বির, ভাশুর শেখ কমুর উদ্দিন, দেবর শেখ কামরুজ্জামান ও ননদ মোমেনা মুক্তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বেধড়ক মারধর করে। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে মুক্তাকে উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে মুক্তা ওই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এ ঘটনার পরদিন মুক্তা বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযুক্ত গাজীপুর জেলা বিএনপির যুবদলের সহসভাপতি শেখ সাব্বির আহম্মেদ কছিম বলেন, আমার স্ত্রী বেপরোয়া চলাফেরা করে। সে দীর্ঘদিন ধরে আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে। আমি তার কাছে কোনো যৌতুক দাবি করিনি এবং কোনো টাকা গ্রহণ করিনি। সে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। ফুলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম জানান, সাব্বিরের বিরুদ্ধে তার স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। এর আগে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বিষয়টি মীমাংসা হয়নি।

কালিয়াকৈর থানার ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আব্দুস সালাম জানান, ওই ঘটনায় উম্মে মুসলিমা মুক্তা বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।