বসতবাড়ি ঘিরে বেড়া ৩০ পরিবার অবরুদ্ধ

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০১৯      

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ভাড়া নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে যে বাকবিতণ্ডা,  শেষ পর্যন্ত সে দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে প্রভাবশালীরা রোববার ভোরে  দিনমজুরদের বসতবাড়ির চারদিকে বাঁশের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে প্রায় ৩০টি পরিবারকে। ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ত্রিশালের বইলর ইউনিয়নের বাঁশকুড়ি গ্রামে।

১৫টি পরিবারের কেউ সিএনজিচালিত অটোরিকশা বা ভ্যানগাড়ি চালিয়ে, কেউবা দিনমজুরের কাজ করে সন্তানদের লেখাপড়া ও সংসারের খরচ জোগান। প্রতিবেশীরা তাদের ওইসব যানবাহন নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করেন। দিনমজুর নজরুল ইসলামের ছেলে অটোরিকশাচালক সজীব মিয়া সপ্তাহখানেক আগে পাশের বাড়ির মাহমুদুলকে নিয়ে উপজেলার কাঁঠাল ইউনিয়নের কালীরবাজারে যান। সেখান থেকে ফিরে এসে অটোরিকশার ভাড়ার টাকা পরিশোধ করেননি মাহমুদুল। সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও টাকা না দেওয়ায় শনিবার বিকেলে ভাড়ার টাকা চাওয়ায় সজীবকে মারধর করেন মাহমুদুল। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ঝগড়া ও বাকবিতণ্ডা হয়। রোববার ভোরে আবুল বাসার, মোহতাসিম বিল্লাহ, ওকাদুল, কাদির বেপারী, মাহমুদুল ও হারুন অর রশীদ তাদের লোকজন নিয়ে ৬০-৬৫ বছর ধরে যে রাস্তা দিয়ে সজীবরা চলাচল করতেন, ওই রাস্তাসহ সজীবদের বাড়ির চারপাশে নিজেদের জমি থাকায় চারদিকে বাঁশের বেড়া দিয়ে তাদের চলাচলের সব পথ বন্ধ করে দেন। এতে ওই বাড়ির নূরুল ইসলাম, রুহুল আমিন, আলী হোসেনসহ ১৫টি পরিবার ও পশ্চিমপাশের বাড়ির আরও পাঁচটি পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। অবরুদ্ধ বাড়ি থেকে কোনো লোকজন বেরোলে লাটিসোটা নিয়ে ধাওয়া করা হয় তাদের। সেই ভয়ে প্রায় ২৫ শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারেনি, কাজে যেতে পারেননি কোনো দিনমজুর।

ভুক্তভোগী নূরুল ইসলাম জানান, আমার ভাই-ভাতিজা ও ছেলেরা সবাই অটোরিকশা, ভ্যানগাড়ি ও দিনমজুরের কাজ করে। যা কামাই (আয়) হয় তা দিয়ে সন্তানদের লেখাপড়া ও সংসারের খরচ চলে। অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডায় প্রভাবশালীরা আমাদের বসতবাড়ির চারদিকে বাঁশের বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন। প্রতিবেশী হাবিবুর ও রাজ্জাক জানান, নিজেদের জমি দাবি করে যে রাস্তা তারা বন্ধ করেছে ওই রাস্তা দিয়ে ৬০-৬৫ বছর ধরে ২০টি পরিবারের লোকজন চলাচল করে আসছেন। অবরোধকারী আবুল বাসার বলেন, রাস্তাসহ ওদের বাড়ির চারপাশের জমি আমাদের। ওরা মাথা নিচু করে কথা না বললে আমাদের জমির ওপর দিয়ে তাদের চলাচল করতে দেব না।

ইউএনও আব্দুল্লাহ আল জাকির বলেন, একজনের সঙ্গে আরেকজনের  ঝগড়া হতেই পারে। তাই বলে কেউ রাস্তা বন্ধ করতে পারে না। দ্রুত এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।