শেরপুরে ১৭ শিবির ক্যাডার গ্রেফতার

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

শেরপুর ও টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

শেরপুরে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জঙ্গি হামলার চেষ্টায় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে জড়ো হয়েছিল অর্ধশতাধিক ছাত্রশিবির ক্যাডার। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে সে চেষ্টা নস্যাত হয়েছে। অস্ত্র, প্রচুর সংখ্যক জিহাদি বই, লিফলেটসহ গ্রেফতার হয়েছে ১৭ শিবির ক্যাডার।

মঙ্গলবার রাতে পৌর শহরের দিঘারপাড় এলাকার প্রত্যন্ত গ্রাম বলবল বাজারের একটি পরিত্যক্ত গোডাউনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। বাকিরা পালিয়ে যায়। গ্রেফতাররা হচ্ছেন- নালিতাবাড়ী উপজেলার নিজপাড়া গ্রামের সামছুজ্জামানের ছেলে আশিক বিল্লাহ, কিল্লাপাড়া গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে জাহিদ হাসান, ছিটপাড়া গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে মোজাহিদুল ইসলাম, ভায়াডাঙ্গা বানিয়াপাড়া গ্রামের হাবিবুল্লাহর ছেলে আবু সামা কবির, বাগিছাপুর গ্রামের ইসমাইলের ছেলে আলমগীর, রাজনগর গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে ওসেক বিল্লাহ, শ্রীবরদী উপজেলার পোড়াগড় গ্রামের বাচ্চা গেল্লার ছেলে ওবায়দুল ইসলাম, আব্দুস সামাদের ছেলে কামাল মিয়া, বড়পোড়াগড় গ্রামের সবুর উদ্দিনের ছেলে রুহুল আমিন, জলংগাপাড়া গ্রামের মো. মামুনের ছেলে বেলায়েত হোসেন ও বায়জিদ হোসেন, আব্দুল খালেকের ছেলে মো. নুরনবী, সাতানি মথুরাদি গ্রামের আমির হামজার ছেলে মোজাহিদুল ইসলাম জাহিদ, তাতিহাটি গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে মামুন মিয়া, সাইদুল ইসলামের ছেলে আরাফাত, তিনানি ভেলুয়া গ্রামের আবু আহাম্মদের ছেলে মাহাদি হাসান ও খামারিপাড়া গ্রামের আবুল বারেকের ছেলে সুন্দর আলী। তারা সবাই বিভিন্ন মাদ্রাসা ও কলেজের শিক্ষার্থী ও শিবির ক্যাডার বলে জানা গেছে।

সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তাদের কাছে গোপনে খবর আসে অর্ধশতাধিক শিবিরকর্মী জেলা সদরে হামলার ছকের উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছেন। দিঘারপাড় এলাকার বলবল বাজারে রাত পৌনে ২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। এ সময় স্থানীয় ইসমাইল হোসেন হরফ আলীর পরিত্যক্ত গোডাউন থেকে ১৭ জন শিবিরকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে জিহাদি বই, লিফলেট, ধারালো অস্ত্রশস্ত্র ও লাঠিসোটা উদ্ধার করা হয়।

এদিকে টাঙ্গাইলের গোপালপুরে নাশকতার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া জামায়াত-শিবিরের ৩৬ নেতাকর্মীর মধ্যে ১৮ জনের দু'দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। অপর ১৮ জনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

তাদের গত মঙ্গলবার গোপালপুর উপজেলার নলীন বাজারে যমুনা নদীর ঘাট থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এরা বঙ্গবন্ধু সেতুকেন্দ্রিক বিভিন্ন স্থাপনায় নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছিল। গোপালপুর থানার উপপরিদর্শক আবদুল মালেক খান বাদী হয়ে ৩৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ১০/১৫ জনের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করেছেন।

বুধবার বিকেলে টাঙ্গাইল বিচারিক হাকিম আদালতে গ্রেফতারকৃতদের হাজির করে ১৮ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিন করে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। পরে জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শামসুল আলম দু'দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

যে ১৮ জনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে তারা হলেন- উপজেলা জামায়াতের আমির গোলাম মোস্তফা রঞ্জু, বেতবাড়ী গ্রামের মহিউদ্দিন, দক্ষিণ গোপালপুরের ফারুক হোসেন, বিষ্ণুপুর গ্রামের আবদুল আলিম, হাজেরা বাড়ির গ্রামের ইউনুস আলী, খানপাড়ার আবদুল কাইয়ুম, চরপাড়া গ্রামের মো. সোহাগ, চাতুটিয়া গ্রামের মাসুদ করিম, মির্জাপুর উত্তরপাড়া গ্রামের নাসির উদ্দিন, ফলাদা চরপাড়া গ্রামের আবদুল আলিম, পাকুটিয়া গ্রামের ছানোয়ার হোসেন, কোনাবাড়ী গ্রামের ফরমান আলী ও হেকমত আলী, জোত বাগদ গ্রামের বিজয় হোসেন ও রাসেল রানা, সোনামুই গ্রামের ফরহাদ হোসেন, মধুপুর ভট্ট গ্রামের গোলাম মোস্তফা, জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার মালিপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম। এ ছাড়া গ্রেফতারদের মধ্যে ১৮ জনকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, দেশের গুরুত্বপূর্ণ বঙ্গবন্ধু সেতুতে নাশকতা কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা ছিল গ্রেফতার হওয়া জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের। নৌ ভ্রমণের নামে এই নাশকতার পরিকল্পনা করে তারা। বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা জন্য তারা একত্র হয়েছিল।