চাঁদপুরে ২ শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯      

চাঁদপুর প্রতিনিধি

চাঁদপুরে ২৪৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবন রয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগ জরাজীর্ণ ভবনেই চলছে শিশুদের পাঠদান। এসব স্কুল ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে প্রায়ই। কোনোটির আবার নড়বড়ে অবস্থা। আর বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় স্কুলে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকেন অধিকাংশ অভিভাবক। এ ছাড়া এসব স্কুলের কোনো কোনোটিতে আবার খোলা আকাশের নিচে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, আট উপজেলায় ১১৫৬ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মোট ২৭৪টি স্কুলের ভবন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলায় ২৯টি, কচুয়া উপজেলায় ২৬টি, হাজীগঞ্জে ৪৩টি, হাইমচর উপজেলায় ৪টি, শাহরাস্তি উপজেলায় ২৮টি, ফরিদগঞ্জে ৮০টি, মতলব দক্ষিণে ২৭টি এবং মতলব উত্তর উপজেলায় ৩৭টি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে।

দেশগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সফিকুর রহমান বলেন, স্কুল ভবনের অবস্থা দেখলে হতবাক হয়ে যাবেন যে কেউ। আমাদের এই স্কুল ভবনের অবস্থা খুবই খারাপ।

চাঁদপুর সদর উপজেলার পূর্ব জাফরাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, এ স্কুলের একটি ভবন জরাজীর্ণ এবং আরেকটি পরিত্যক্ত। তাই স্কুলে বাচ্চাদের ঠিকমতো বসানো যাচ্ছে না। ছোট্ট একটি শ্রেণিকক্ষের মধ্যে যেখানে ৩০ জন বাচ্চা বসতে পারে, সেখানে ৫০ জন বাচ্চা বসাতে হচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদানও।

কচুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এএইচ এম শাহরিয়ার রসু বলেন, আমাদের এখানে যেসব বিদ্যালয় ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে তার তালিকা ইতিমধ্যে জেলা অফিসে পাঠানো হয়েছে।

মতলব দক্ষিণ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম শহীদুল হক মোলল্গা বলেন, অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের নির্দেশনা মতে আমরা ইতিমধ্যেই পুরো উপজেলা ঘুরে ১৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পেয়েছি। চাঁদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাহাব উদ্দিন বলেন, গত বছর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) বরাবর জরাজীর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তালিকা পাঠানোর পর বরাদ্দ পাওয়া গেছে সেগুলোর কাজ চলছে। সর্বশেষ গত জুলাই মাসে নতুন করে ২৭৪টি জরাজীর্ণ-ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল ভবনের তালিকা পাঠানো হয়েছে অধিদপ্তরে।