টঙ্গীতে স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা শিশুকে সিগারেটের ছ্যাঁকা

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০১৯      

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

টঙ্গীতে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য তার স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে বাক্সবন্দি করে হত্যার চেষ্টা ও দেড় বছরের শিশুকে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দত্তপাড়া এলাকায় সাইফুল ইসলামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ মাসুদা বেগম গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার মোহানি গ্রামের লেহাজ উদ্দিনের মেয়ে।

মাসুদা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামী হাবিবুর রহমান আগে একটি বিয়ে করে। ওই সংসারে স্ত্রী হাছিনা খাতুন নাজমা ও চার ছেলেমেয়ে রয়েছে। চার বছর আগে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। এর পর মাসুদাকে বিয়ে করে হাবিবুর। তাদের দেড় বছরের এক শিশুকন্যা রয়েছে। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে হাবিবুর যৌতুকের জন্য তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী বেশ কয়েকবার মীমাংসা করে দেন। তার পরও নির্যাতন থামেনি। শনিবার রাতে হাবিব দোকান থেকে ঘরে ফিরে তাকে গালাগাল ও মারধর করতে থাকে। কিছুক্ষণ পর তার আগের স্ত্রী হাছিনা খাতুন নাজমা, তার ছেলে রনিসহ অজ্ঞাতপরিচয় লোকজন এসে তাকে বেদম মারধর করে হাত-পা বেঁধে মুখে স্কচটেপ দিয়ে ফ্রিজের কার্টনে ভরে মেরে ফেলার প্রস্তুতি নেয়। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে। ঘটনায় জড়িত হাবিবুর রহমান, হাছিনা খাতুন নাজমা, রনি, চৈতি ও অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তিকে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন এলাকাবাসী। পরে ওই দিন রাতে মাসুদা বেগমকে মুচলেকার মাধ্যমে হাবিবের হাতে তুলে দেওয়া এবং এলাকার লোকজনের মাধ্যমে মীমাংসা করার কথা বলে পুলিশ। হাবিব বাসায় গিয়ে মাসুদাকে ফের মারধর করে এবং দেড় মাসের শিশুকন্যার গালে ও হাতে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেয়। রোববার এলাকায় এ ঘটনা জানাজানি হলে হাবিবুর রহমান ও তার সঙ্গের লোকজনকে ধরে আনার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় পুলিশ।

টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মো. কামাল হোসেন জানান, এ ব্যাপারে  মামলা হয়েছে।